বিশ্বকাপ পাগল এক বাঙালি দম্পতি!

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২২:৫৭
বিশ্বকাপ ফুটবল ভক্ত নাকি ‘বিশ্বকাপ ফুটবল পাগল’ কোন নামে ডাকা উচিত সেটা পাঠকরাই ভালো বলতে পারবেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এমন এক প্রবীণ দম্পতির সন্ধান পাওয়া গেছে যাদের বিশ্বকাপ ফুটবল প্রেম নিয়ে উপন্যাস লেখা যায়! ১৯৮২ সালে সেই স্পেন বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এরপর আর একটি বিশ্বকাপও মিস করেননি তারা। ফুটবল ভক্ত এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠে বসে একসাথে খেলা দেখেছেন! এবারও ব্রাজিল বিশ্বকাপে যাচ্ছেন তারা খেলা দেখতে। এই দু’জন হলেন ৮১ বছরের পান্নালাল চ্যাটার্জি ও তার ৭১ বছর বয়সী স্ত্রী চৈতালি চ্যাটার্জি। যে দেশেই বসুক না কেন বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর, সেই দেশে উড়ে যাওয়া চাইই। বয়সের তোয়াক্কা করেননি তারা। কলকাতার খিদিরপুরের ছোট সরু গলিতে তাদের বাড়ি। ৩২ বছর আগে লন্ডনে এক বন্ধুর বাড়িতে গরমের ছুটি কাটাতে গেছিলেন তারা। সেখানেই বন্ধুর উত্সাহে ঠিক করেন স্পেনে বিশ্বকাপ দেখতে যাবেন। মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখে যে মজা পেয়েছিলেন তা নেশার রূপ নেয়। সেই উন্মাদনার রেশেই প্রতিবারই ছুটে গেছেন বিশ্বকাপ দেখতে। এবার ১৭ জুন কলকাতা ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন ব্রাজিলের উদ্দেশে। ম্যারাডোনার বহুল আলোচিত সেই হাত দিয়ে গোল দেয়ার দৃশ্য মাঠে বসে দেখেছিলেন। সেই অনুভূতি এখনো ভুলতে পারেন না। জি নিউজকে পান্নালাল বলেন, ফুটবলের প্রতি ভালবাসা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো নয়। স্পেন, মেক্সিকো, ইতালি, আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান-কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার পর এবার ব্রাজিল বিশ্বকাপ। ভালবাসা থাকলে বোধহয় পয়সা কখনই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী পান্নালালের সংসার চলে মাসে ৭৫০০ রুপি পেনশন ও ছোটখাট শাড়ির ব্যবসা করে। ৪ বছর ধরে প্রতি মাসে সঞ্চয় করেন শুধু বিশ্বকাপ দেখতে যাবেন বলে। আর প্রতিবারই সঙ্গে নেন নিজের দেশের পতাকা। তবে এবারের উন্মাদনা একেবারেই আলাদা ব্রাজিলের অন্ধ ভক্ত পান্নালালের। তিনি বলেন, ব্রাজিল হচ্ছে ফুটবলের মক্কা। একমাত্র ইচ্ছা ছিল সেই ব্রাজিলে বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়ার। সেই সাধ পূরণ হতে যাচ্ছে। জানি না পরের বার আর মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখতে যেতে পারব কিনা। পান্নালাল-চৈতালী দম্পতির কোনো সন্তান নেই। প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বকাপের মাঠে হাজির হওয়ার জন্য বেশ হিসেব করে চলতে হয় তাদের। যেমন, তারা পছন্দের মাছ খাওয়া বাদ দিয়েছেন। ব্রাজিলের এই আসরে যোগ দিতে টাকা জোগাড় করতে অনেকদিন আধপেটা খেয়েছেন। আর তার স্ত্রী চৈতালী শাড়ি বানিয়ে সেগুলো বিক্রি করে বাড়তি অর্থ যোগান দিয়েছেন। ফুটবলের প্রতি এই বাঙালি দম্পতির প্রেমের কথা পৌঁছে গেছে ফুটবলের বিশ্বসংস্থা ফিফার কাছেও। তাই সংস্থাটি ব্রাজিলে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছে। আর স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেল তাদের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে এবার। ফুটবল তারকাদের নাড়ি নক্ষত্র সব মুখস্ত পান্নার স্ত্রী চৈতালীর। পান্না নিজে কিছু ভুলে গেলে স্ত্রীর কাছ থেকে শুনে মগজটা ঝালাই করে নেন তিনি।