হিন্দির ব্যবহার প্রসঙ্গে মোদীর ‘আদেশ’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২৩:০৫
ভারতে হিন্দির ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদেশ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশও হয়েছে। সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিন্দি ব্যবহারের আদেশ দিয়েছে। বিতর্ক সৃষ্টির পর গত শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, যেসব রাজ্যে হিন্দি ভাষা প্রচলিত সেইসব রাজ্যেই হিন্দি ভাষা ব্যবহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অনুরোধ করেন, এই আদেশ যেন অ-হিন্দি রাজ্যের ক্ষেত্রে যেন প্রযোজ্য না হয়। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে হিন্দি ব্যবহার করছেন। এমনকি বিদেশি অনেক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও হিন্দি ভাষার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তারা। জয়ললিতার বিরোধী দল ডিএমকে প্রধান এম করুণাণিধি বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার জনগনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করছেন। সরকার ভাষা চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। এই ধরনের আদেশ অ-হিন্দি রাজ্যের মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রভার ফেলবে। গত ২৭ মে জারি করা এই আদেশের পর জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ বহুজন সমাজপার্টি নেতা মায়াবতী, তামিলনাড়ুর অনেক দলের নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তামিলনাড়ুতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মিত্র দল পাট্টালি মক্কল কাচি (পিএমকে) দলের প্রতিষ্ঠাতা এস রামাদোও এধরনের আদেশকে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ভারতে ২২টি ভাষাকে অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। ভারতের স্বাধীনতার আগেও তামিলনাড়ুতে হিন্দির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে। করণাণিধির পুত্র এমকে স্টালিন বলেন, শতকরা ৫৫ ভাগ মানুষ অ-হিন্দি ভাষায় কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, এই আদেশ জারি করা হয়েছে গত ২৭ মে। আর তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ২৯ মে। তাই এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে বিজেপি মুখপাত্র মুকতবার আব্বাস নাকভি জানান, অনেক মনে করেন, যারা হিন্দি ভাষায় কথা বলেন, তারা নিরক্ষর। আর যারা ইংরেজিতে কথা বলেন তারা খুব স্মার্ট। এই মনোভাব দূর করার চেষ্টা করছে সরকার। হিন্দি ভাষা ভারতের আত্মা বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকার হিন্দি ভাষার অগ্রগতির জন্য কাজ করছে এবং এজন্য যা কিছু করা দরকার সবই করবে সরকার।