ত রু ণী ক থা .

তাসলিমা আক্তার নিপা

আপডেট : ২২ জুন ২০১৪, ১৯:৫৯
মেয়েরা অবহেলিত। শুধু আজকে নয়, যুগ যুগ ধরে মেয়েরা অবহেলিত হয়ে আসছে। মেয়েরাও যে মানুষ মাঝে মাঝে আমাদের সমাজ সেটা ভুলে যায়। মেয়েরা তাদের অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের সমাজের মানুষেরা মনে করেন যে, একটা মেয়ে শুধুমাত্র ঘরের কাজ করবে। কিন্তু এইসব ভাবনার জন্য আমাদের সমাজ মেয়েদেরকে তাদের অধিকার থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রেখেছে। আমাদের সমাজে ছেলেরা যেভাবে চলাফেরা করতে পারে মেয়েরা সেইভাবে চলাফেরা করতে পারেনা। মেয়েরা যখন ঘরের বাহিরে বিভিন্ন কাজের জন্য বের হয়, তখন আমাদের সমাজের মানুষ তাকে হীন চোখে দেখে। একটা ছেলে যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তার পরিবার থেকে যে সুযোগটা পায়, একটা মেয়ে সেই সুযোগটা পায়না। মেয়েরা একটু বড় হলেই অথবা উচ্চমাধ্যমিক পার হলেই তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়ার জন্য পরিবার উঠেপড়ে লাগে, ফলে তাদের আর উচ্চ শিক্ষা লাভ করা হয়না। কিন্তু একটা ছেলে অনেকদূর পড়াশুনা করার সুযোগ পাই। মেয়েরা বেশি পড়াশুনা করার সুযোগ না পাওয়াতে তারা অধিক জ্ঞান অর্জন করতে পারেনা, ফলে তারা বহিরবিশ্ব সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনা এবং নিজের অধিকারের থেকে বঞ্চিত থাকে। আমাদের দেশে মেয়েরা স্বাধীন ভাবে কিছু করতে পারেনা। বিয়ের আগে বাবা মা তাদেরকে ঘর থেকে বের হতে দেয়না। আর বিয়ের পরে স্বামী ঘর থেকে বের হতে দেয়না, কিছু করতেও দেয়না। মেয়েরা সারাজীবন পরাধীনতার মধ্যে জীবনযাপন করে থাকে। এই পরাধীনতার জন্য তাদেরকে সারাজীবন এই পুরুষ শাসিত সমাজের দাসত্ব করতে হয়। আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন দেশ গড়ার কারিগর শুধু ছেলেরাই। আর মেয়েরা যে আমাদের দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বিশেষ ভুমিকা রাখছে, এটা তারা বিভিন্ন ভাবে বার বার প্রমাণ করেছে। আমরা যদি দেশের একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে বিচার বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখা যাবে মেয়েদের ভুমিকা আমাদের সমাজে কম না। কারণ একটি সন্তানের লালন পালন এবং সুশিক্ষিত করার পিছনে একটা মেয়ের ভুমিকাই বেশি থাকে। আমাদের দেশে যে যতই শিক্ষিত হক বা জীবনে অনেক বড় হকনা কেন, তাদের এই বড় হওয়ার হাতেখড়ি কিন্তু একটা মেয়ের কাছে থেকেই হয়। আমাদের সমাজের উচিত, মেয়েদেরকে মেয়ে হিসেবে না, তাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের প্রাপ্য অধিকার পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।