শিক্ষা পরামর্শ

আপডেট : ২২ জুন ২০১৪, ২০:০৯
মো. সাজ্জাদ হোসেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) হবিগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষায় সহপাঠ কার্যক্রমে সামাজিক,সাংস্কৃতিক, নৈতিক , শারীরিক, মানসিক বিকাশে শিশুর মননে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুকে আত্মবিশ্বাসী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও মননশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এজন্য শিশুদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ কার্যক্রমের দিকেও ধাবিত করতে হবে। শিশুদের শারীরিক মানসিক এবং আগামীর জনসম্পদ হিসাবে গড়ে তুলতে হলে সহপাঠ কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিতভাবে এ ধরণের কার্যক্রমগুলো পরিচালনার চেষ্টা করে থাকি। তবে সরকারি বাজেটের অপর্যাপ্ততা, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের যথেষ্ট পরিমাণে সম্পৃক্ত না হওয়া, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিগুলো যথেষ্ট গতিশীল না থাকা, কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বল্পতা, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং খেলার মাঠ না থাকাটা অনেকটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। স্কুল পর্যায়ে শিক্ষকরা কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করতে অধিকাংশ শিক্ষক আগ্রহী। তবে কিছু কিছু শিক্ষক আছেন যারা এ সকল কার্যক্রমে পদক্ষেপ গ্রহণে উত্সাহী হন না। তাদের উদ্বুদ্ধ করণের মাধ্যমে সক্রিয় করার চেষ্টা চালানো হয়ে থাকে।। সহপাঠ কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে নিয়মিত পালন করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি,অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যক্তিদেরকে সম্পৃক্তকরণ, বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত উপকরণ ও লজিস্টিক্স (খেলার সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র) এর সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে শিশুদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান, বিদ্যালয় অবকাঠামোগত উন্নয়নসাধন এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ থাকা আবশ্যক। আমরা চেষ্টা করি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে এ কার্যক্রমগুলো যেমন: খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্যাপন ইত্যাদি নিয়মিতভাবেই পালন করতে। প্রতিবছরে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যে প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদ্যাপন এবং শিশুদের মৌসুমী পুরস্কার প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসসমূহে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে উদ্যাপিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সহপাঠ কার্যক্রম হিসেবে কাবিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা অধিকাংশ বিদ্যালয়ে চালু আছে। স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন, ক্ষুুদে ডাক্তার কর্মসূচীর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি ইত্যাদিও উল্লেখযোগ্য সহপাঠ কার্যক্রম। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহপাঠ কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এজন্যে সহপাঠকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী রুপ দিতে হবে।