দরিদ্রতা দমাতে পারেনি ডিমলার অদম্য ৪ মেধাবীকে। প্রবল ইচ্ছাশক্তি তাদের সাফল্য এনে দিয়েছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে এই মেধাবীরা। সবাই উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চায়। কিন্তু অর্থাভাবে সে স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত এসব মেধাবী ও তাদের অভিভাবকরা।
পাউরুটি বিক্রেতার মেয়ে কাজলী
পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ
ডিমলায় পাউরুটি বিক্রেতার মেয়ে কাজলী আক্তার ডিমলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা বাবুরহাট গ্রামের কামরুল ইসলাম দোকানে দোকানে পাউরুটি বিক্রি করে প্রতিদিন যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ১ ছেলে ২ মেয়ের পড়াশুনা করাচ্ছেন। অর্ধাহার-অনাহারসহ সব প্রতিবন্ধকতাকে পদদলিত করে স্বপ্ন পূরণে ভাল কলেজে ভর্তি হতে চায় কাজলী। মা বাবলী আক্তার মেয়ের সাফল্যে খুশি হলেও ভবিষ্যত্ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানান।
কিভাবে স্বপ্ন পূরণ হবে জানা
নেই পলি আক্তারের
ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে পলি আক্তার। সে ডিমলা সদর ইউনিয়নের সরদারহাট গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আকবর আলীর কন্যা। পিতা সংসারের কোন কাজ করতে পারে না। বাড়ি ভিটে-বাড়ি ছাড়া কোন জমি না থাকায় মা আফরোজা বেগম সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান। পলি আক্তারের সাফল্যে খুশি হলেও চিন্তায় ঘুম হারাম হয়েছে পিতামাতার। কিন্তু কিভাবে তার স্বপ্ন পূরণ হবে তা তাদের জানা নেই।
শ্রমিকের কাজ করেও সাফল্য
পেয়েছে আল আমিন
পশ্চিম খড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করেও মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে আল আমিন খান। সে গয়াবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ী গ্রামের আবু ছায়েদ খানের পুত্র। বড়বোন সাজেদা আক্তার গয়াবাড়ী স্কুল এ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। অন্যের জমি বর্গা চাষ ও দিনমজুরে চলে তাদের সংসার। ছেলে ভাল রেজাল্ট করলেও ভাল কলেজে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিতায় পিতা আবু ছায়েদ খান ও মা জাহানারা বেগম।
দিনমজুরের কাজ করে হান্নান
মিয়ার জিপিএ-৫ লাভ
দিনমজুরের কাজ করে পশ্চিম খাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে হান্নান মিয়া। সে গয়াবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ী গ্রামের আব্দুল গফুর মিয়ার পুত্র। বড় ভাই আব্দুল মান্নান মিয়া ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকরির পাশাপাশি ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র। আব্দুল গফুর মিয়া অন্যের জমিতে বর্গাচাষের পাশাপাশি শ্রমিকের কাজ করে। মা লাইলি বেগম জানায়, ছেলেটা ভাল কলেজে ভর্তি চাইলেও সংসারের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা ।
