ইরান ছিল কঠিন বাধা

আপডেট : ২২ জুন ২০১৪, ২২:১৪
ম্যাচ শুরুর আগে দর্শক-সমর্থকরা ঘুরেফিরে একটা কথাই বলছিল, কোথায় আর্জেন্টিনা, আর কোথায় ইরান! তবে ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনা আর ইরানের সামর্থ্যে তেমন একটাি ফারাক নেই। শেষ পর্যন্ত হার মেনে নিতে বাধ্য হলেও দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে এশিয়ার প্রতিনিধিদের লড়াইটা বহুদিন দাগ কেটে থাকবে দর্শক হূদয়ে। কাগজে কলমে দুর্বল ইরান দলটি যে আর্জেন্টিনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল, সেটা স্বীকার করলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসিও। বলেন, ইরান ছিল কঠিন একটা বাধা। অতিরিক্ত সময় শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক গোলটি করা মেসির কণ্ঠে ম্যাচ শেষে তাই ছিল নকআউট রাউন্ডে উত্তরণের আনন্দের পাশাপাশি স্বস্তিও। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তো আর্জেন্টিনাকে রীতিমত চাপেই রেখেছিল ইরান। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে মেসি গোল না করলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হতো আলেসান্দে া সাবেলার শীষ্যদের। দুই ম্যাচে দুই গোল করা মেসি বলেন, ‘ইরান আমাদের ঘিরে ধরেছিল। আমাদের পিছু ছাড়ছিল না তারা। কোনো ফাঁকা জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। তাছাড়া ম্যাচটি দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। প্রথমার্ধে আমরা যেমন অনেকগুলো সুযোগ পেয়েছি, দ্বিতীয়ার্ধে তারাও অনেকগুলো সুযোগ পেয়েছে।’ ইরানের বিপক্ষে জয় পেতে কষ্ট করতে হয়েছে বললেন আর্জেন্টিনার কোচ সাবেলাও। বলেন ‘এটা অনেক কঠিন ম্যাচ ছিল। দারুণ জমেছে লড়াইটা। দ্বিতীয়ার্ধে তো তারা বেশ ক’বার জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আমি ইরান এবং তাদের খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এমন একটি দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার দেয়ার জন্য।’ আক্রমণ-রক্ষণে উপযুক্ত ভারসাম্য না থাকাতেই দলের এমন নড়বড়ে অবস্থা জানিয়ে সাবেলা আরো বলেন, ‘আমরা এখনো ভারসাম্য খুঁজছি। সৌভাগ্যক্রমে ইরানের বিপক্ষে জয় পেয়েছি, পয়েন্ট পেয়েছি। তারা তো আমাদের গুটিয়েই দিয়েছিল। সত্যি, এই জয় পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাদের। আমাদের অবশ্যই আরও উন্নতি করতে হবে। এর মধ্যদিয়ে বুঝতে পেরেছি আমরা আমাদের খেলাটা খেলতে পারছি না।’ এদিকে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ ব্যবধানে হারলেও শীষ্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইরানের কোচ কার্লোস কুয়েরোজ। ইরানের রক্ষণভাগ দীর্ঘ ১৮০ মিনিট গোলশূন্য থাকায় দারুণ খুশি তিনি। প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়ার সাথে ড্র করে এশিয়ার দলটি। মেসির ওই অবিশ্বাস্য গোলের কাছেই হার মানলেও ইরানের কোচ সার্বিয়ান রেফারির ভূমিকাকেও দায়ী করেছেন। অতিরিক্ত সময়ের খেলায় মেসি যাদুতে পরাস্ত হয় ইরানের গোলরক্ষক। ইজেকোয়েল ল্যাভেজ্জির বাড়ানো বল নিয়ে ডি বক্সের বাম কর্নারের উপর থেকে মেসির জোরালো শটে বল জড়ায় ইরানের জালে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলোতে পা রাখে আর্জেন্টিনা। শেষ হয়ে যায় ইরানের জয়তুল্য এক ড্রয়ের স্বপ্ন। ইরানের কোচ কুয়েরোজের মতে, দ্বিতীয়ার্ধে ইরানি স্ট্রাইকার আসকান ডেজাগাহকে আর্জেন্টিনিয়ান পাবলো জাবেলেটা অবৈধভাবে ফেলে দেয়ায় পেনাল্টি দেয়া উচিত ছিলো রেফারির। সার্বিয়ান রেফারি মিলোরাদ মাজিক পেনাল্টি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরানের কোচ। কুয়েরোজ বলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষের ফলাফলে আমি মোটেই আশাহত নই। বরং আমাদের খেলোয়াড়রা দারুণ খেলেছে। আমরা মূলত রেফারির পক্ষপাতিত্ব এবং মেসি যাদুর কাছে হেরেছি। মেসির প্রশংসা করতে গিয়ে পর্তুগালের সাবেক এই কোচ বলেন, ‘মেসির বিপক্ষে খেলতে গেলে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হয়। যে কোন মুহূর্তে ম্যাচের ফলাফল পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা আছে মেসির। আর ইরানের বিপক্ষে মেসির গোলটি ছিল সত্যিই দুর্দান্ত।’