বান্দরবানে লক্ষাধিক মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে

আপডেট : ২২ জুন ২০১৪, ২২:১৬
বান্দরবানে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে প্রতিবছর প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ে না অধিবাসীদের। গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা বর্ষণের প্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো থেকে লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে গত শনিবার সকাল থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, বেঁচে থাকার তাগিদে সদর উপজেলার কাসেমপাড়া, ইসলামপুর, কালাঘাটা, লাঙ্গিপাড়া, বালাঘাটা, বনরূপা পাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়া, লামা উপজেলার হরিণমারা, তেলুমিয়া পাড়া, ইসলামপুুর, গজালিয়া, মুসলিম পাড়া, চেয়ারম্যানপাড়া, হরিণঝিরি, টিএন্ডটি এলাকা, সরই, রূপসীপাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উত্তরপাড়া, বাইশফাঁড়ি, আমতলী, রেজু, তুমব্রু, হেডম্যানপাড়া, মনজয় পাড়া, দৌছড়ি, বাইশারী, রুমা উপজেলার হোস্টেলপাড়া, রনিনপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে তুলছে হাজার হাজার পরিবার। বসবাসের প্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং বৃক্ষ নিধনের কারণে ঘটছে একের পর এক পাহাড় ধসের ঘটনা। পাহাড় ধস বন্ধে নেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। নেয়া হয়নি পাদদেশে বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ। তবে পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রশাসন। জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, পার্বত্যাঞ্চলের অধিবাসী সবাই ঝুঁকিতে বসবাস করে না, কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে থেকে আসা ভাসমান গরীব লোকজনরা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বসবাস করছে। ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের তালিকা তৈরি করে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাহাড়ের উপযোগী মডেলে ছোট্ট ছোট্ট ঘর তৈরি করে আশ্রয়ন প্রকল্পে পুনর্বাসন করা হবে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনদের প্রাথমিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে কত লোকজন রয়েছে, তার সঠিক কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তালিকা তৈরির জন্য ইউএনও এবং ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রমতে, পাহাড় ধসে ২০০৬ সালে মারা গেছে ৩ জন, ২০০৯ সালে লামা উপজেলায় মারা গেছে শিশুসহ ১০ জন, ২০১০ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মারা গেছে ৫ জন, ২০১১ সালে রোয়াংছড়ি উপজেলায় মারা গেছে ২ জন এবং ২০১২ সালে লামা উপজেলায় ২৮ জন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১০জন মারা গেছে। এতকিছুর পরও বান্দরবানে বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটা, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন এবং পাহাড়ের ঢালুতে অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন। প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এদিকে ইটভাটা স্থাপনকে কেন্দ্র করে বান্দরবানে অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন এবং নির্বিচারে বৃক্ষ ও পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না বলে দাবি সচেতন মহলের। বান্দরবান মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, পাহাড় ধস তাত্ক্ষণিক ঘটনা মনে হলেও এটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়ার একটি ফসল। ভূমি ক্ষয়ের মাধ্যমে পাহাড়ে ফাটল তৈরি হয় এবং ধস নামে। পাহাড় ধসের অন্যতম কারণ হচ্ছে-নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং উপযুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন না করে পাহাড়ে চাষাবাদ করা। এছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে ভূমিকম্প, অনাবৃষ্টি এবং অতিবৃষ্টি মাটির গঠনকে দুর্বল করে দেয়। পাহাড় ধস বন্ধে বৃক্ষ নিধন এবং পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।