‘ইন্টারনেট জায়ান্ট’ হিসেবে পরিচিত বিশ্বের বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন গুগল। হাজার হাজার কোটি ডলার সম্পদের মালিক এই প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করে হাজার হাজার কর্মী। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন অগণিত চিঠি এবং ই-মেইল যায়। সব চিঠি পড়ার এবং উত্তর দেয়ার সময় কোথায় গুগলের। কিন্তু কাঁচা হাতে লেখা একটি ছোট্ট মেয়ের চিঠি গুগল কর্তৃপক্ষ ঠিকই পড়ে ফেলে এবং মেয়েটির কাছে সারপ্রাইজ উত্তরও আসে। চিঠিতে মেয়েটি যে অনুরোধ করেছিল, তার চেয়ে ঢের বেশি উপহার সে পেয়ে যায় গুগলের কাছ থেকে।
বিষয়টি খুলে বলা যাক। ছোট্ট মেয়ে কেটি। তার বাবা কাজ করেন গুগল কোম্পানিতে। সপ্তাহে একদিন মাত্র ছুটি পান। সামনেই বাবার জন্মদিন। মিষ্টি কেটির ইচ্ছা, জন্মদিনটি বাবার সাথে কাটানোর। কি করবে কেটি? তার ছোট্ট মাথায় অতশত না ভেবে সরাসরি চিঠি লিখে ফেলল গুগলকে। কিছু শুদ্ধ কিছু অশুদ্ধ ইংরেজিতে নিজের মত করে কেটি লেখে-
প্রিয় গুগল কর্মীরা,
আপনারা কি আমাকে নিশ্চিত করতে পারেন, যখন বাবা কাজে যাবেন তখন যেন তিনি একদিনের ছুটি পান। যেমন তিনি বুধবারে ছুটি পেতে পারেন। কারণ বাবা কেবল শনিবারে একদিন ছুটি পান।’ ছোট্ট মেয়েটির আকূতি এখানেই থামে থাকেনি।
পুনশ্চ দিয়ে সে লেখে, ‘এটা বাবার জন্মদিন!’ তারপর পুনঃ পুনশ্চ দিয়ে আবার লেখে, ‘আপনি জানেন এটা গ্রীষ্মকাল (গ্রীষ্মকালের কথাটা কেন উল্লেখ করল তা বোধগম্য নয়)’।
এমন চিঠি কার মন না গলিয়ে পারে! মন গলে যায় গুগলেরও। তাই গুগলও কেটিকে উদ্দেশ করে একটি চিঠি পাঠায়। গুগলের চিঠিতে লেখা ছিল-
প্রিয় কেটি,
তোমার চিন্তাশীল চিঠি ও অনুরোধের জন্য ধন্যবাদ। সারা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ও গুগলের জন্য তোমার বাবা অনেক সুন্দর ও মজাদার ডিজাইন বানাচ্ছেন। তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আগামী জুলাই মাসের প্রথম পুরো সপ্তাহ আমরা তাকে ছুটি দিয়ে দিচ্ছি। উপভোগ কর!’
চিঠি পেয়ে কেটির অনুভূতি কেমন হয়েছিল তা অবশ্য জানা যায়নি।
