নূর হোসেনকে আজ আদালতে হাজির করা হবে

আপডেট : ২২ জুন ২০১৪, ২২:২১
নূর হোসেনকে অনুপ্রবেশকারী প্রমাণ করতে নারায়াণগঞ্জ পুলিশের সাহায্য নেবে পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। এর জন্য দ্রুত যোগাযোগ করা হবে বাংলাদেশ প্রশাসনের সঙ্গে। এদিকে আজ সোমবার নূরকে বারাসত আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে ফের ৬ দিনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করতে হবে আদালতে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে হবে তার বাংলাদেশী নাগরিকত্বের বিষয়ে। না হলে ৩ মাস পর নূরের জামিন হয়ে যেতে পারে। যেমনটা হয়েছিল ২০০৮ সালে সুব্রত বাইনের ক্ষেত্রে। সেবার এস টি এফ প্রধান রাজীব কুমারের নেতৃত্বে সুব্রতকে কলকাতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দেয়া হয়েছিল অনুপ্রবেশ, অস্ত্র আইনে মামলা। কিন্তু ভারতীয় পাসপোর্ট থাকায় সুব্রতকে অনুপ্রবেশকারী প্রমাণ করা যায়নি। জামিন পেয়ে সুব্রত নেপালে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে নেপালের জেল ভেঙ্গে সুব্রত কলকাতায় এলে ফের তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বৌবাজার এলাকা থেকে। এবার তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় পলাতক আসামি হিসেবে বিচার চলছে। কারণ সেবার আদালতের নির্দেশ ছিল ১৫ দিন অন্তর থানায় হাজিরা দিতে হবে। সুব্রত তা করেনি। নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিধাননগর কমিশনারেট এলাকার কৈখালী থেকে সেই রাজীব কুমারের নেতৃত্বে। তিনি এখন বিধাননগর কমিশনারেটের কমিশনার। নূরের বিষয়ে তিনি শুরু থেকেই মামলা সাজানোর বিষয়ে সতর্ক। তদন্তকারী অফিসারদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন নূর যে বাংলাদেশী তার সমস্ত তথ্য, প্রমাণ যেন সংগ্রহ করা হয়। কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, নূরের হেফাজত থেকে বাংলাদেশের সিম উদ্ধার করা গেলেও তা তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে না। এর জন্য প্রয়োজন তার বাংলাদেশের পাসপোর্ট বা সচিত্র নাগরিকত্বের মত প্রামাণ্য নথি। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হবে নূরের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা ভারতে থাকার ভিসা নেই। নেই ভারতীয় হওয়ার কোনো প্রমাণপত্রও। এটুকুই তার সাজা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু নূর হোসেন যাতে কোনো রকমেই জামিন পেয়ে ছাড়া না পায়, এর জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সহায়তা নিতে পারে তারা।