চাওয়া তিন-চার জয়

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ২০:৪৩

n  দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

 

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কী করবে?

উত্তরটা সময়ের হাতে তোলা রয়েছে। কিন্তু অনুমানের শেষ নেই। চায়ের দোকান থেকে ফেসবুক; সব জায়গায় চলছে বাংলাদেশের প্রতি প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা। কেউ বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যত্ দেখতে পাচ্ছেন না। আবার কেউ বাংলাদেশকে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতাটা সবচেয়ে ভালো বোঝেন দেশের শীর্ষ কোচরা। বাংলাদেশের তিন জন শীর্ষস্থানীয় কোচ বলছেন, সেমিফাইনাল বা ফাইনাল নয়; বাংলাদেশের তিন বা চারটি জয় হলেই খুশি হবেন।

প্রথম টেস্টের কোচ সারোয়ার ইমরান, বাংলাদেশের তৃণমূল কোচিংয়ের প্রাণপুরুষ নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং তরুণ ও সফল কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন একমত হলেন যে, স্বপ্নটা ছোট করে তিন চার ম্যাচে রাখাটাই শ্রেয়। টুর্নামেন্ট বিশ্লেষণ করে তারা দেখালেন, এই কঠিন টুর্নামেন্টে এর চেয়ে বড় কিছু বাংলাদেশের জন্য কঠিন স্বপ্ন হবে।

বাংলাদেশ দলের বাস্তবতা বোঝাতে গিয়ে ফাহিম বলছিলেন, ‘বাংলাদেশ দলটার অবস্থানও বোঝা একটু কঠিন। কাগজে কলমে এই দশ দলের মধ্যে বাংলাদেশ বেশ একটু নিচের দিকেই আছে; মানে, সেরা চারে নেই। আবার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফর্ম খুব ভালো। বোলিংয়ে একটু দুর্বলতা থাকলেও দলের মানসিক অবস্থা খুব ভালো বলে মনে হচ্ছে।’

তবে নাজমুল আবেদীন ফাহিম বাংলাদেশের বেশি দূর যাওয়াটা অসম্ভব মনে করেন না। তিনি মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে একটা জয় বদলে দিতে পারে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পথচলা। এই প্রথম ম্যাচকে পাখির চোখ করে তিনি বলছিলেন, ‘শুরুটা যদি ভালো করা সম্ভব হয়, তাহলে কিন্তু আমরা অনেক দূর যেতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকা এমন দল নয় যে, তাদের আমরা হারাতে পারব না। এই দলটাকে হারিয়ে আমরা যদি একটা ভালো শুরু করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে চলে গেলেও আমি অবাক হব না। কারণ, আমরা সে ক্ষেত্রে আরো শক্তিশালী মানসিকতা নিয়ে পরের ম্যাচগুলো খেলতে পারব।’

তবে এসব বলে আবার হাওয়ায় ভাসাতে চাইছেন না ফাহিম। তিনি মনে করছেন না যে, সেমিফাইনাল খেলাটা অসম্ভব। কিন্তু সে লক্ষ্য কঠিন। ওর চেয়ে সহজ লক্ষ্যটা তিনিই ঠিক করে দিলেন, ‘সেমিফাইনাল খেলা অসম্ভব নয়। খুব কঠিন হবে। তবে সম্ভব। আমি ব্যক্তিগতভাবে ৪টা ম্যাচ জিতলে খুশি হব। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা উচিত, আফগানিস্তানের বিপক্ষে জেতা উচিত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও জেতা উচিত। এই চারটা ম্যাচ জিততে পারলে আমি বলব, সফল টুর্নামেন্ট হয়েছে।’

পুরো টুর্নামেন্টের কথা বলতে গিয়ে ফাহিম বললেন, এবারের টুর্নামেন্টে নিয়মিত বড় স্কোর দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে নেট রানরেটের চিন্তায় অনেক দলই ঝুঁকি নিয়ে বড় স্কোর করে রাখতে চাইবে বলে ধারণা করছেন অভিজ্ঞ এই কোচ, ‘এবার বিশ্বকাপে পার স্কোরটা তিন শ রানের ওপরে চলে যেতে পারে। আমার মনে হয়, আজকের দিনে সব দলই এভাবে প্রস্তুত থাকে। আর এবার বিশ্বকাপে শেষ দিকে গিয়ে নেট রানরেট একটা বড় ব্যাপার হতে পারে। ফলে সবগুলো দল শুরুতে বড় স্কোর করে রাখতে চাইবে।’

দেশের প্রথম টেস্টে জাতীয় দলের কোচ ছিলেন সারোয়ার ইমরান। তিনি বলছিলেন, এবারের ফরম্যাটের কারণেই টুর্নামেন্টটা অনেক বেশি কঠিন। এবার বাংলাদেশের কাজ কতোটা কঠিন হবে, তা বোঝাতে গিয়ে বলছিলেন, ‘এবার তো খেলাটা অনেক কঠিন। এবার সবার সঙ্গে সবার খেলতে হবে। ৯টা খেলায় কমপক্ষে ৫টা না জিতলে পরের রাউন্ডে যাওয়া যাবে না। আগে যেটা হতো গ্রুপে একটা বড় ম্যাচ জিতলে পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যেত। এবার আর তা হচ্ছে না। ফলে খুব কঠিন হবে আমাদের জন্য।’

কঠিন বলেই বাংলাদেশের সামনে সহজ লক্ষ্য ঠিক করে দিতে চান সারোয়ার ইমরান। তিনি বলছিলেন, তিনটি ম্যাচ জিতলেই খুশি হবেন তিনি, ‘সেমিফাইনাল খেলতে পারলে তো সবচেয়ে খুশি হব। তবে সেটা তো সহজ নয়। তাই তিনটি ম্যাচ জিতলেই আমি খুশি হব। বিশেষ করে যে ম্যাচগুলো আমাদের জেতা উচিত, সেগুলো জিতে আসলেই ভালো হবে।’

বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দেরও কোনোরকম চাপ নিতে একেবারেই নিষেধ করে দিলেন অভিজ্ঞ এ কোচ। তিনি বলছিলেন, সেমিফাইনালের লক্ষ্য নিয়ে খেলাটা উচিত হবে না, ‘একদমই চাপ নেওয়ার কিছু নেই। সবাই বাস্তবতা বোঝে। ছেলেদের একটা করে ম্যাচ নিয়ে ভাবা উচিত। সেমিফাইনাল বা বড় কোনো লক্ষ্য মাথায় নিয়ে চাপ তৈরি করা উচিত না।’

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতি প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও সেই তিন-চার জয়ের কথা বললেন। তিনি সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখতে নিষেধ করছেন না। কিন্তু বলছেন, ‘আমার প্রত্যাশা হচ্ছে, তিনটা ম্যাচ জয়। চারটা জিতলে খুব খুশি হব। স্বপ্ন তো অবশ্যই সেমিফাইনাল বা ফাইনাল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ফলে তিন জয় পেলেই খুশি হব।’

বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্ট কেন কঠিন হবে, সেটা বলতে গিয়ে সালাউদ্দিন বললেন, ‘এবারের ফরম্যাট আর উইকেটের জন্য আমাদের খুব কঠিন হবে। আমাদের বোলিং খুব ভালো তা বলা যাবে না। উইকেট ফ্লাট থাকবে। ফলে বোলিং খুব ভালো না হলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বড় কিছু করা কঠিন।’

তবে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের বার্তা দিতে গিয়ে এই কোচ বলছিলেন, টুর্নামেন্টে আশাবাদের কিছু দিকও আছে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্ট হওয়ায় এখানে ফিরে আসার ভালো সুযোগ থাকবে বলে চিন্তিত হওয়ার কারণ কম, ‘আমাদের জন্য অনেক বড় টুর্নামেন্ট। কিন্তু খেলোয়াড়দের এসব চিন্তা করা চলবে না। তাদের ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলতে হবে। একটা সুবিধা হলো, বড় টুর্নামেন্ট। খারাপ কিছু করলেও কাম ব্যাক করার সুযোগ থাকবে। তাই একটা দুটো খারাপ ফলে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। ফিরে আসার সুযোগ থাকবে।’