বাড়ি যখন অফিস

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৪, ১৯:৫৯
বাস্তবতার মেঘের আড়ালে কি ঢেকে যাচ্ছে আপনার ক্যারিয়ারের সূর্য? নাকি ন’টা-পাঁচটা সময়ের শেকলে জীবনকে বেঁধে ফেলায় আপনার চরম আপত্তি? অথবা নিজের সন্তানকে সময় দেওয়ার পর আর বাইরে কাজ করার জন্য সময় করতে পারছেন না? এ রকম সমস্যার সমাধানের জন্যই অনেকে নিজের বাড়িতেই অফিস করেন। ছোটখাটো ব্যবসা অথবা ইন্টারনেটে বসে অনলাইনে চাকরি করেন অনেকেই। কিন্তু তাতেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়? একটার সাথে চলে আসে আরও হাজারো সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধান নিয়েই লিখেছেন ইশরাত বিনতে আফতাব আজকাল অনেকেই বাড়িতে খাবার, বুটিক এবং আরও অনেক ধরনের ব্যবসা শুরু করেছেন। এতে যেমন নিজের স্বাধীনতা বজায় থাকে তেমনি নিজের খেয়াল খুশিমতো সময় দেওয়া যায়। নিজের বাড়িতে অফিসের কাজ করতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন পরিবারের সবার সহযোগিতা। এ ছাড়া কাজ এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। আর অফিসের কাজ করার জন্য যে রুমটি বেছে নেবেন সেটি ড্রয়িং রুম বা লিভিং রুম না হওয়াই ভালো। নাহলে পরিবারের স্বকীয়তায় বিঘ্ন ঘটে। খুব ভালো হয় যদি কাজের রুম অন্যান্য রুম থেকে আলাদা হয় এবং কিছুটা দূরে হয়। যদি কাজের রুমে ঢোকার জন্য আলদা কোনো দরজার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়। আপনার জন্য কাজের সুবিধা হয় অনেক। অফিসের রুম সাজানোর ক্ষেত্রে পরিবারের সবার মতামত নিতে পারেন। রুমের দেয়ালটা কেমন হবে অথবা মেঝেতে কি থাকবে। লাইটিংটা কেমন হবে এসব ব্যাপারে সবার মতামত নিন। কি ধরনের ব্যবসা করছেন তার উপর নির্ভর করবে আপনার রুমের সাজসজ্জা এবং সুবিধা। ধরুন আপনি কোনো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা করবেন, সে ক্ষেত্রে আপনার রুমে সর্বদা ইন্টারনেট কানেকশন থাকা জরুরি। আর প্রযুক্তি তো আমাদের নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সতর্ক থাকুন আপনার ব্যবসা দিয়ে যাতে আপনার পরিবারের মানুষ খুশি থাকে, বিরক্ত নয়। আর এ ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার দায়িত্ব কিন্তু আপনারই। অফিসের ফোন আর আপনার পার্সোনাল ফোন আলাদা রাখুন। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর আর অফিসের ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। যতক্ষণ সময় আপনার পরিবারের মানুষকে দেবেন সেটা শুধুমাত্র তাদেরকেই দিন। আর সারাদিন আপনার কাজের ক্ষেত্রে কী কী হলো তাদের সাথে সবকিছু শেয়ার করুন। ছোটখাটো বিভিন্ন কাজে তাদেরকে যুক্ত করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে আপনার পরিবারের সদস্যরাও তাদেরকে আপনার কাজের অংশ হিসেবে মনে করবে। যদি সম্ভব হয় তাহলে যে যা কাজ করবে তার জন্য কিছু টাকাও দিন যতই অল্প পরিমাণ হোক না কেন, এতে ছোট সদস্যদের উত্সাহ বাড়ে। আর আপনার ব্যবসার দরকারে যাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে তাদের সাথে যোগাযোগ অফিস পর্যন্তই রাখুন। যদি বন্ধুবান্ধব আসে দেখা করতে তাদেরকে অফিসে আপ্যায়ন না করাই ভালো। নিজের অফিসে নিজের মতো করে আপনার ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিন পরিবারের সবার সাহায্য নিয়ে।