ঈদ মানে আনন্দ। আর এই আনন্দকে রাঙাতে চাই নতুন পোশাক। শুধু নতুন পোশাক হলেই হবে না, সেটা হতে হবে নজরকাড়া ডিজাইনের। অনেকেই আছেন যারা ঈদে রেডিমেট পোশাকের চেয়ে নিজের পছন্দের ডিজাইনকে প্রাধান্য দেন। পোশাক নিয়ে তাদের ব্যস্ততা শুরু হয় রোজার আগেই। যারা এখনও দর্জিবাড়ির শরণাপন্ন হননি তাদের জন্য পরামর্শ নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন অজেয় চৌধুরী
ঈদ আসতে এখনও অনেক দিন বাকি। তবে কয়েকদিন পরই শুরু হবে রোজা। ঈদের জন্য পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বানিয়ে নিতে এখনই সময় দর্জিবাড়িতে যাওয়ার। দর্জিবাড়িগুলোতে পোশাক বানানোর ধুম লাগবে কয়েকদিনের মধ্যেই। রোজার দিনে বিরক্তিকর ভিড়ের কারণে এই সময়ে অনেকেই সেরে ফেলতে চান ঈদের কেনাকাটা। আবার ১৫ রোজার পর দর্জিবাড়িতে আর কাপড় দেওয়া সম্ভব নয়। তাই যারা গজ কাপড় কিনে জামা বানাতে ইচ্ছুক, তারা আগে থেকেই বেছে নিন পছন্দসই কাপড়। এবারের ঈদে আবহাওয়া গরম থাকবে। তাই এই ঈদে সুতি কাপড়ের চাহিদা অনেক বেশি। ঈদকে সামনে রেখে বাজারে এসেছে নতুন নতুন গজ কাপড়। সুতি কাপড়ে আছে বাহারি নকশার কাজ। সুতির মধ্যে হালকা রঙের জংলি ছাপার গজ কাপড়ে রয়েছে ব্লক, এমব্রয়ডারি ও চুমকির ভারী কাজ। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাতানের চাহিদা তো রয়েছেই।
কা মি জ
হাল সময়ে কামিজের ঝুলের রেওয়াজ ৩৪ থেকে ৩৮ ইঞ্চির মধ্যে। খাটো কামিজের চাহিদাও কম নয়। মাসাককালি ও টপস ঘরানার কামিজ বানাতেও তরুণীদের আগ্রহ লক্ষণীয়। এ ছাড়া বাহারি ঘটিহাতা বা ম্যাগিহাতা আর থ্রিকোয়ার্টার হাতার প্রচলন বেশি। অন্যদিকে ফুলস্লিভ ও স্লিভলেস হাতার চাহিদা রয়েছে আগের মতোই। হাতার ক্ষেত্রে মসলিন বা নেট কাপড়ের লম্বা হাতার ফ্যাশন এবারের ঈদে অনেকের গায়েই জড়িয়ে থাকবে। তবে জামার নিচের দিকটায় গোল ও চারকোণা শেপের আধিক্যও লক্ষণীয় হবে।
সা লো য়া র
কম কুচি ও একটু ঢোলা সালোয়ারই প্রাধান্য পাচ্ছে এ সময়ের ফ্যাশন সচেতন নারীর পছন্দের তালিকায়। সালোয়ারে মুহুরির মাপ দেওয়া হচ্ছে ১০-১২ ইঞ্চি। অনেকে সাধারণ কাটে নিচে চাপা সালোয়ার
পছন্দ করছে। এ ছাড়া চুড়িদার সালোয়ার ও সালোয়ারের নিচের অংশে লাইনিং কিংবা পাইপিং
করার ক্ষেত্রেও অনেকের আগ্রহ রয়েছে।
গ লা র কা ট
কামিজের ক্ষেত্রে ভিশেপ, চারকোণা, গোল, হাইনেক, বোটনেক সবই চলছে এবার। এ ছাড়া টেইলার্সগুলোতে সংগ্রহে রাখা ক্যাটালগ থেকেও আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দসই গলার কাটের বাহার।
অন্যদিকে ব্লাউজের গলায় থাকছে রকমারি কাটের ফ্যাশন। পিঠ খোলা রেখে ব্লাউজের পেছনটাকে করা
হচ্ছে আরও অনেক বেশি আকর্ষণীয়।
পো শা কে কা রু কা জ
প্রিয় পোশাকে ভিন্নতা আসতে এতে বসাতে পারেন চুমকি, পুঁতি বা গ্লাস। গলায়, হাতে কিংবা কামিজের নিচের অংশে শোভা পাচ্ছে এবার লেইস ও পাড়ের ব্যবহার। এ ছাড়া ব্লক, স্প্রে, হ্যান্ডপেইন্ট অথবা অ্যাপ্লিকও করিয়ে নিতে পারেন আপনার পছন্দসই ডিজাইন অনুযায়ী।
দ র দা ম
গজ কাপড়ের মধ্যে আছে ভেলভেট কাতান, এন্ডি কাতান, জট কাতান, সিল্কসহ আরও নানা কাপড়। এ ছাড়া আছে খাদি, ধুপিয়ানের মতো একরঙা কাপড় আর সিল্ক। জর্জেট, প্রিন্টের জর্জেট, লিলেনও আছে। প্রিন্টের সুতি গজ কাপড়ের দাম পড়বে প্রতি গজ ৩শ থেকে ৮শ টাকা। এমব্রয়ডারি বা হাতের কাজ করা সুতি কাপড়ের গজ ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা। সিল্কের কাপড় হালকা কাজ করা গজপ্রতি ২শ থেকে ৮শ টাকা। সুতির মধ্যে ব্লক বা বাটিক করা কাপড় ১ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। জর্জেট বা শিফনের মধ্যে কাজ করা থাকলে তা পাওয়া যাবে ১২শ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। এ ধরনের কাপড় পাবেন গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, মিরপুর, ইসলামপুর, বসুন্ধরা সিটি, সানরাইজ প্লাজা, রাপা প্লাজা, পিঙ্কসিটি প্রভৃতি শপিং মলে।
সে লা ই য়ে র খ র চ
নিউমার্কেট বা গাউছিয়া এলাকায় দর্জিবাড়ির চাহিদার তুলনায় পোশাক সেলাইয়ের দাম কম। সালোয়ার-কামিজ বানাতে খরচ দেড়শ টাকা। শুধু সালোয়ার ৮০ টাকা এবং কামিজ বানাতে খরচ পড়বে ১শ টাকা। তবে গুলশান, বনানী, বারিধারায় খরচ একটু বেশি। ১৫ রোজার পর শেষ হয়ে যাবে ফরমায়েশ নেওয়া। তাই আজই দর্জিবাড়ি গিয়ে এসব ঝামেলা শেষ করুন। ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে শার্ট ২শ, প্যান্ট ৩শ, স্যুট ৩ হাজার টাকা, প্রিন্স স্যুট আড়াই হাজার, ব্লেজার ৩ হাজার, পায়জামা ৩শ টাকা।
দ র্জি বা ড়ি র ঠি কা না
চাঁদনিচক, গাউসিয়া, নিউমার্কেট ও গাউসুল আজম মার্কেটে রয়েছে মেয়েদের বেশিরভাগ টেইলার্স। এ ছাড়াও লালমাটিয়া, গুলশান, উত্তরা, ধানমন্ডিতে রয়েছে পোশাক বানানোর আধুনিক টেইলার্স—ছেলেদের ক্ষেত্রে স্টার টেইলার্স, ফিট এলিগেন্স, দ্য রেমন্ড শপ, আইকনস টেইলর অ্যান্ড ফেব্রিকস, আইডিয়াল টেইলর অ্যান্ড ফেব্রিকস, আজিজস টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিকস, এগুলোর শাখা বিভিন্ন জায়গায়। বসুন্ধরা শপিংমল, রমনা ভবন, সোনারগাঁও রোড, উত্তরা, ধানমন্ডি আনাম র্যাংগস প্লাজা, মগবাজার বিশাল সেন্টার, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলশানের ইউনিকর্ন প্লাজা। আর ইচ্ছে করলে বাড়ির কাছে লেডিস টেইলার্স থেকেও বানিয়ে নিতে পারেন আপনার পছন্দসই পোশাকটি।
