কান খুবই স্পর্শকাতর একটি জায়গা। কানে সমস্যা হলে তার ফলাফল বেশ গুরুতর হতে পারে। কানে ব্যথা, ইনফেকশন বাচ্চাদের প্রায়শই অসুস্থ করে তোলে। সঠিক চিকিত্সা না হলে বাচ্চা বধিরও হয়ে যেতে পারে! কানে খোল জমে শক্ত হয়ে গেলে বাচ্চা সম্পূর্ণ বধির হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে কিছু আলোচনা।
বড়দের কানের সুড়ঙ্গটা অনেকটা ইংরেজি s অক্ষরের মতো। দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ইঞ্চি, শিশুদের বেলায় কিন্তু তা নয়। তাদের কানের সুড়ঙ্গ সোজা আর তাতেই বাধে সব বিপত্তি। শিশুদের কানে কিছু ঢুকলে কী করতে হবে সেটি নির্ভর করে কানে কী ঢুকেছে তার ওপর। কানের মধ্য থেকে কোনো কিছু বের করার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে অচেতন করে নিতে হয়। বিশেষ করে শিশুদের অচেতন করে নেওয়াই ভালো। কারণ অচেতন না করে কানের মধ্যে কাজ করতে গেলে কান আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। কানের মধ্য থেকে কোনো কিছু বের করতে কখনোই কোনো হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত নয়। একইভাবে নিজেরাও বের করার চেষ্টা করা উচিত নয়। অদক্ষ হাতে, দরকারি যন্ত্রপাতি ছাড়া এ ধরনের কাজ করতে গেলে বহিঃকর্ণ এবং কানের পর্দা আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। অযাচিত অজ্ঞতাবশত খোঁচাখুঁচির জন্য বাইরের বস্তুটি কানের পর্দা ফুটো হয়ে মধ্যকর্ণে ঢুকে যেতে পারে। তখন এটি বের করে আনা আরও জটিল হয়ে যায়। পোকা বা পিঁপড়া বা তেলাপোকা ঢুকলে সেটিকে মেরে ফেলার জন্য কানের মধ্যে বেশি করে স্পিরিট দেওয়া যেতে পারে। মেরে ফেলার পর সেটিকে বের করে আনতে হবে। এ জন্য অনেক সময় অচেতন করার দরকার পড়ে।
অন্যান্য বস্তু ঢুকলে সেটিকেও বের করে আনতে হবে।
কানে ব্যথার কারণ
কান ব্যথার নানান কারণের অন্যতম হলো কানের ময়লা বা ওয়াক্স। যদি কানের ময়লা ঠিক সময়মতো পরিষ্কার না করা হয় বা অহেতুক খোঁচাখুঁচি করা হয় তাহলে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। এতে কানে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। এমনকি শিশু শ্রবণশক্তি হারিয়েও ফেলতে পারে।
সুইমিং পুলের পানি যদি পরিষ্কার না হয়, সেই পানিতে শিশু সাঁতার কাটলে কানে ‘এক্সটারনাল ইয়ার ইনফেকশন’ হতে পারে। এতে কানে ব্যথার পাশাপাশি কান থেকে রস বের হয়।
সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি থেকে কানে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে কানে ব্যথা হয়। ঠিক সময়ে চিকিত্সা না হলে কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে রক্ত পুঁজ বের হতে পারে। একে বলে মিডল ইয়ার ইনফেকশন। এই রোগে শিশু কানে কম শোনে এবং প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লাগলেই শিশুর কান দিয়ে পানি বা পুঁজ বের হয়। এই অসুখ সংক্রামক। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক বাচ্চা থেকে আরেক বাচ্চার মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মনে রাখুন
বাচ্চা কান ব্যথার কথা বললে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
ক্লিপ, কাঠি, সেফটিপিন ইত্যাদি দিয়ে বাচ্চার কান পরিষ্কার করবেন না।
কানে অল্প খোল হলে বাড়িতেই ড্রপ ও ইয়ার বাড ব্যবহার করে পরিষ্কার করে দিন। অলিভ অয়েল দু ফোঁটা করে দুই কানে দিয়ে দিন। কানের ময়লা আপনাতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে বেশি ময়লা জমে গেলে ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
বাচ্চা যদি সাঁতার শেখে তাহলে পানিতে নামার আগে কানে ইয়ার প্লাগ লাগিয়ে দিন।
ঠাণ্ডা লাগার পর যদি কানে ব্যথা হয় বা কান থেকে রস বের হয় তাহলে কানে তুলা গুঁজে দেবেন না। জরুরি ভিত্তিতে ইএনটি বিশেষজ্ঞ দেখান।
