সিরিয়া ও জর্ডান সীমান্তপথসহ ইরাকের আরো কয়েকটি শহর সুন্নি বিদ্রোহীরা দখল করে নিয়েছে। জঙ্গিদের এই অব্যাহত অগ্রযাত্রার মধ্যেই সোমবার আকস্মিকভাবে বাগদাদ সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরাকে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছেন।
সিরিয়া ও জর্ডানের সীমান্তপথসহ ইরাকের পশ্চিম সীমান্তে আরো কয়েকটি শহর গত রবিবার সুন্নি বিদ্রোহীরা দখল করে নিয়েছে। ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা রবিবার আনবার সীমান্তপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ নিয়ে আনবারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ এখন জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে। গত শুক্রবারের পর সিরিয়া সীমান্তবর্তী এই প্রদেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চারটি শহরও বিদ্রোহীরা দখল করেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় কাইম শহর জঙ্গিদের দখলে চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে ইরাকি কর্মকর্তারা। কাইম দখলের ফলে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সরঞ্জাম আনা-নেয়া করা বিদ্রোহীদের জন্য সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে?
জঙ্গিদের এই অব্যাহত অগ্রযাত্রার মধ্যেই গতকাল সোমবার আকস্মিকভাবে বাগদাদ সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। প্রসঙ্গত, ইরাকের সুন্নি জঙ্গিদের প্রতিরোধের ঘোষণা দিলেও তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে নুরি আল-মালিকির সরকার? জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্টের (আইএসআইএল) যোদ্ধাদের অব্যাহত অগ্রযাত্রায় ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে? দেশে জাতিগত বিরোধ নিরসনে ব্যর্থতার কারণে তার ক্ষমতা ছাড়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কর্মকর্তারা?
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরাকে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের বিরোধিতা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে রয়টার্স একথা জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্য ইরাকে ৩০০ সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর ঘোষণার তিনদিন পর খামেনি এ কথা বললেন।
খামেনি গত রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা ইরাকে মার্কিন এবং অন্যান্য হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছি। কেননা আমাদের বিশ্বাস ইরাকের সরকার, জনগণ এবং ধর্মীয় নেতারা এই বিদ্রোহ মোকাবেলা করতে সক্ষম।’ অনেকেই ধারণা করছেন, শিয়া মতাবলম্বী ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মালিকিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার মার্কিন তত্পরতার বিরুদ্ধে হঁশিয়ারি উচ্চারণ করেই শিয়াদের প্রধান নেতা খামেনি এই কথা বলেছেন। সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কংগ্রেস সদস্যরা ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মালিকিকে দায়ী করে প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে তাকে অপসারণের জোর দাবি জানান।
