সুন্দরবনের পর্যটন শিল্প ঘিরে মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৪, ২১:৩৩
সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পকে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসাবে গ্রহণের মাধ্যমে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। তারা নিজেদের শ্রমের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে রক্ষা করতে চান, তেমনি দু’বলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে চান। সুন্দরবন-ঘনিষ্ঠ অধিবাসীদের দারিদ্র্য দূরীকরণে বিকল্প জীবিকায়ন সৃষ্টির লক্ষ্যে ইউএস স্টেটস ডিপার্টমেন্টের ইন্টারন্যাশনাল এলামনাই এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ‘কনজার্ভেশন থ্রু ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্পের মাধ্যমে রূপান্তর ইকো-ট্যুরিজম লিমিটেড দাকোপ উপজেলার লাউডোব, বানিশান্তা ও কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের এ স্বপ্ন দেখাচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে তারা তিনটি ইউনিয়নের ৩০ জন ট্যুর গাইড, ১৫ সদস্যের তিনটি লোক-সাংস্কৃতিক গ্রুপ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নারী ও শিক্ষার্থীদের সুন্দরবনের পর্যটন বিষয়ে সচেতন, আগ্রহী ও যোগ্যতা সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছে। রূপান্তর ইকো-ট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি কোন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) নয়। ‘পরিবেশবান্ধব পর্যটন, নিরাপদ সুন্দরবন’ গড়ার লক্ষ্যে প্রকল্পটি মূলত কাজ করছে। ইতিমধ্যে দাকোপের তিনটি ইউনিয়নে সুন্দরবনের পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ৩০ জন ট্যুর-গাইড ও ৪৫ জন নারীকে স্থানীয় কৃষ্টি-কালচারের ওপর নির্ভর করে হস্তশিল্প বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে কিভাবে সুন্দরবনের সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট না করেও পর্যটন শিল্পের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। হাতের কাজে প্রশিক্ষণ নেয়া খেজুরিয়া গ্রামের গৃহবধূ মলিনা মন্ডল বলেন, শুধু হাতের কাজ দিয়ে টাকা আয় করা সম্ভব, এটা আমরা বুঝতেও পারিনি। আমরা কাজ শিখে ‘নকশী কাঁথা’, ‘ওয়াল ম্যাট’, ‘ম্যাট, শো-পিস’, ‘কুশন’, ‘পাপোশ’ তৈরি করতে পারছি, যার বাজার মূল্যও ভালো।’ পেটিকাটা গ্রামের গৃহবধূ লিপিকা রানী রায় বলেন, মাত্র ছয় মাসের হাতের কাজের ট্রেনিং নিছি, তা দিয়ে কিছু কাজ করতিছি। কিছু কাজ করলি পরিবারডারে তো একটু ভালো রাখতি পারবো নে। ট্যুর গাইড হিসাবে প্রশিক্ষণ নেয়া লাউডোব ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়ন্ত সরকার বলেন, পর্যটক গাইড হিসাবে কাজ করতে এখন আমরা পুরো প্রস্তুত। একই অভিমত কৈলাশগঞ্জের অনিতা মন্ডলের। কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক নেতা গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায় বলেন, আমাদের অঞ্চলের মানুষ অধিকাংশই দরিদ্র। বন রক্ষা করে পর্যটন গড়ার কাজে অনেকেই এগিয়ে আসছে। সরকারকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন বলেন, সুন্দরবন ধ্বংসের জন্য শিক্ষিত ও সচেতন মানুষেরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। এক্ষেত্রে আমাদের দরিদ্র মানুষেরা শুধু ব্যবহূত হন।