টানা ভারী বর্ষণে গত পাঁচদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সূর্যের দেখা মেলেনি। রোদ না থাকায় উপজেলার ৫ শতাধিক চাতালে উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রায় কোটি টাকার ধান। এই পরিস্থিতিতে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে, অন্যদিকে কমছে ধানের দাম। লোকসানের মুখে পড়েছেন ধান ব্যবসায়ী ও চাতাল মালিকরা। অন্যদিকে ‘কাজ নাই মজুরি নেই’ এই ভিত্তিতে কর্মরত প্রায় ২৫ হাজার চাতাল শ্রমিক বেকার বসে আছেন। ধার-দেনা করে চলছে তাদের সংসার।
চাতালগুলোতে উপস্থিত হয়ে দেখা গেছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহত্ চাল উত্পাদন কেন্দ্র আশুগঞ্জ উপ-জেলার প্রায় সব চাতালে উত্পাদন বন্ধ হয়ে আছে। অধিকাংশ চাতালে সিদ্ধ করা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে চাতাল শ্রমিক ও মালিকরা। ধানগুলো যেন নষ্ট না হয় সেজন্য তারা টুপরির ভেতরে ধান নাড়াচাড়া করছেন। রোদ না থাকায় সিদ্ধ করা ধান শুকানো যাচ্ছে না। জমাট বেঁধে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির আশংকায় রয়েছেন চাতাল মালিকরা। চাতালে উত্পাদন বন্ধ থাকায় ধানের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ধানের বিক্রি ও দাম কমতে শুরু করেছে।
এদিকে চাতালে কর্মরত ২৫ হাজারের বেশি শ্রমিক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এসব শ্রমিকের নির্ধারিত কোন মজুরি নেই, উত্পাদনের হিসাবে তাদের মজুরি নির্ধারিত হয়। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় এক চাতাল ধান সিদ্ধ করা, শুকানো এবং চাল ভাঙ্গাতে সময় লাগে দুই থেকে তিনদিন। এরপরই কেবল একজন শ্রমিক ৭০ থেকে ৮০ টাকা মজুরি এবং দৈনিক খোরাকি বাবদ তিন কেজি ভাঙ্গা চাল পান। চাতাল বন্ধ থাকলে বা চাতালে কাজ না থাকলে তারা কোন মজুরি পান না। টানা বর্ষায় চাতাল বন্ধ থাকায় তারা মজুরি পাচ্ছেন না। মজুরি কম হওয়ায় তাদের তেমন কোন সঞ্চয়ও নেই। যে কারণে কষ্টে কাটছে তাদের দিন। চাতালে কাজ করেন হালিমা। তিনি বললেন, বর্তমানে তাদের কোন কাজ নেই, মজুরিও পাচ্ছেন নেই। ছেলেমেয়ে নিয়ে এক প্রকার না খেয়েই দিন কাটছে। চাতাল শ্রমিক আলী আকবর জানান, অগ্রিম শ্রম বিক্রি করে দাদন নিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছেন তারা।
আশুগঞ্জ উপজেলা ধান ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ শাহজাহান সিরাজ জানান, চাতাল বন্ধ থাকায় বাজারে ধান বিক্রি কমে গেছে। বাজারে প্রতিদিন ৫০ হাজার মণ ধান বিক্রি হতো, সেটা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ধানের দামও প্রতি মণে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। এ অবস্থা আরো কিছুদিন চললে বাজারে চালের সরবরাহ কমে যাবে, চালের দামও বাড়তে পারে।
জেলা চাতালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাজু খান জানান, প্রায় ৫ শতাধিক চাতাল বন্ধ রয়েছে। প্রতিটি চাতালেই দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ধান পানিতে পচে নষ্ট হচ্ছে। প্রায় কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে চাতাল মালিকরা। শহর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম হোসেন ইপটি বলেন, টানা বৃষ্টি সব ব্যবসার ওপরই কমবেশি প্রভাব ফেলেছে।
