চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেই

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৪, ২২:২৪
চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেই বললেই চলে। আবার যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার বা ওভারপাস নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নিজ নিজ পরিকল্পনা মোতাবেক অগ্রসর হলেও তাদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় নগরবাসী উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাদের মতে, শুধু এ দু’টি প্রধান সংস্থা নগরীর সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্বে থাকলেও আরো অন্তত ডজনখানেক সরকারি সংস্থা এদের উন্নয়নের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো প্রতিটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কোনপ্রকার সমন্বয় ছাড়াই তাদের কাজ করে চলেছে। নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আলী আশরাফ ইত্তেফাককে বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থা যদি চট্টগ্রামের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করেন তাহলেও মহানগরীর সুষম উন্নয়ন সম্ভব। তবে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন যা কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দ ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সামপ্রতিক সময়ে বহদ্দারহাট এলাকায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে। সিডিএ’র নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উক্ত ফ্লাইওভারের ব্যবহার ও উপযোগিতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, উক্ত ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৩০০/৪০০ যানবাহন চলাচল করে। অথচ ফ্লাইওভারের নীচ দিয়ে ১৩শ থেকে ১৪শ যানবাহন চলাচল করে। আবার পরিকল্পিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন নামক প্রকৌশলী ও বুদ্ধিজীবীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক সাংবাদিক সম্মেলনে নগরীতে নির্মিত ও প্রস্তাবিত ফ্লাইওভার নির্মাণে মাস্টার প্ল্যান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সড়ক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া ইতিপূূর্বে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, অপরিকল্পিত ফ্লাইওভার নির্মাণ হলে নগরীতে যানজট কমবে না বরং বাড়বে। সিডিএ শুধু ফ্লাইওভার নয় নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের অনেক কাজ করছে। এ খাতে সরকারও বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছেন, সিডিএ চট্টগ্রামের উন্নয়নের সিঁড়ি হিসাবে কাজ করছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৬০ লাখ বাসিন্দার বড় একটি অংশকে প্রতিবছর বর্ষায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর মাস্টার প্ল্যানের সাথে সাথে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানও নেয়া হয়েছে। ২০ বছর মেয়াদী ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হচ্ছে। এই মাস্টার প্ল্যানে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিকল্পনা থাকলেও কোন সংস্থাই তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী কয়েকটি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি খাল খননের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে নগরীতে পানি ধরে রাখার জন্য জলাধার তৈরি এবং ১৪৪ কিলোমিটার নালা-নর্দমা ও খালের কথা বলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ২০১২ সালে বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ২৯৫ কোটি টাকার খাল খননের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আগামী কিছুদিনের মধ্যে তা একনেক থেকে অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন চট্টগ্রামের প্রাণের দাবি। তিনি দলমত নির্বিশেষে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি সরকারের নিকট এ খাতে বরাদ্দ প্রদানের দাবি জানান। তিনি বলেন, ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে কর্পোরেশনের বর্তমান ড্রেনেজ সিস্টেমে কোনভাবেই জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। একইভাবে নগরীর ওয়াসা, টিএন্ডটি, বিদ্যুত্, সড়ক ও জনপথ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ সমন্বিতভাবে কিংবা মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী তাদের উন্নয়ন ও সেবাধর্মী কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে পরিকল্পিত নগরায়ন সম্ভব বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদসহ সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় যত্রতত্র উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সার্বিকভাবে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না।