তদন্তের উদ্যোগ বিজিএমইএর
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশে নতুন মজুরি ঘোষণার পর শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে শ্রমিক হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংগঠন আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (এএএফএ)। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সম্প্রতি বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হককে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন এএএফএ’র প্রেসিডেন্ট রিক হেলফেনবিন। চিঠিতে ওই শ্রমিক আন্দোলনের পর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ, ১ হাজারের বেশি শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে জানিয়ে তাদেরকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকেও একটি চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটি।
সূত্র জানায়, ওই চিঠি পাওয়ার পর এএএফএ প্রেসিডেন্টকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি। চিঠিতে তিনি শ্রমিক হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া ‘কথিত’ এক হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের তালিকা দিয়ে সহযোগিতা করতে সংগঠনটির কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ছাঁটাইয়ের অভিযোগের সত্যাসত্য জানতে আমরা কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলছি। কোনো অবৈধ ছাঁটাই হয়ে থাকলে অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমই অগ্রহণযোগ্য। সেটি শ্রমিক ছাঁটাই হোক কিংবা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে হোক।
গত বছরের শেষ দিকে সরকার গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে। কিন্তু বিভিন্ন গ্রেডে মজুরি বৃদ্ধির হার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন বেশ কিছু কারখানার শ্রমিক। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, কারখানায় ভাঙচুর এবং আশুলিয়া এলাকায় একজন শ্রমিক নিহতের ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীকালে মজুরি পর্যালোচনা করে কয়েকটি গ্রেডে কিছুটা বাড়ানো হয়। অবশ্য এর পর শ্রমিকদের নামে মামলা ও ছাঁটাইয়ের অভিযোগ করে আসছেন শ্রমিক নেতারা। ইস্যুটি নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন শ্রম অধিকার ফোরাম থেকে উদ্বেগ জানানো হচ্ছিল। সর্বশেষ ইস্যুটি নিয়ে কথা বলেছে এএএফএ।
এএএফএ’র চিঠিতে বাংলাদেশে কারখানাকে নিরাপদ করতে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্যোগ বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিতে (অ্যাকর্ড ইস্যু) উদ্বেগের কথা জানানো হয়। অবশ্য ইতোমধ্যে আরো প্রায় এক বছরের জন্য বাংলাদেশে অ্যাকর্ডের কার্যক্রম চলমান রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ। চিঠিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বিজিএমইএ সভাপতি ।
