মুখস্তের সঙ্গে অনুধাবন ও করতে হবে মনপ্রাণ দিয়ে
মোহাম্মদ আক্তার-উজ জামান
প্রভাষক, উদ্ভিদবিদ্যা
রূপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ , ঢাকা।
কোষ বিভাজন
শিক্ষার্থীরা, আজ রয়েছে তোমাদের জন্য জীববিজ্ঞান প্রথমপত্রের দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা বিষয়টির খুঁটিনাটি বুঝার চেষ্টা করবে যেহেতু এটি বিজ্ঞানের বিষয় তাই মুখস্তের সঙ্গে অনুধাবন ও করতে হবে মনপ্রাণ দিয়ে।
প্রশ্ন: ক. ক্রসিং ওভার কাকে বলে?
প্রশ্ন: খ. কায়াজমা বলতে কী বুঝায়?
প্রশ্ন:গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ধাপে ক্রোমোসোমের আকৃতি V.L, J.I-এর মতো দেখায় কেন? ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন: ঘ. উদ্দীপকের পরবর্তী ধাপের বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে কোষ বিভাজন সম্পন্ন হয়— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ক. এক জোড়া সমসংস্থা ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার কোমাটিডের মধ্যে যে অংশের বিনিময় ঘটে তাকে ক্রসিং ওভার বলে।
উত্তর:খ. মিয়োসিস-১ কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১-এর প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ের শেষের দিকে হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের মধ্যে বিকর্ষণ দেখা যায়। ফলে একে অপরের কাছ হতে দূরে সরতে থাকে। হোমোলোগাস ক্রোমোসোমগুলো সম্পূর্ণরূপে আলাদা হতে পারে না। কারণ নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মাধ্যমে এরা এক বা একাধিক স্থানে যুক্ত থেকে ইংরেজি ‘X’ অক্ষরের ন্যায় অবস্থা সৃষ্টি করে। দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের ‘X’আকৃতির জোড়াস্থলকে একবচনে কায়াজমা এবং বহুবচনে কায়াজমাটা বলে।
উত্তর: গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ধাপটি মাইটোসিসের অ্যানাফেজ। কোষ বিভাজনের যে পর্যায়ে অপত্য ক্রোমোসোমসমূহ বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরুমুখী চলতে শুরু করে সে পর্যায়কে অ্যানাফেজ বলে। সেন্ট্রোমিয়ারের পূর্ণ বিভক্তির ফলে প্রতিটি ক্রোমাটিড একটি অপত্য ক্রোমোসোমে পরিণত হয় এবং প্রতিটি অপত্য ক্রোমোসোমের মেরু অভিমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ারই অগ্রগামী থাকে এবং বাহুদ্বয় অনুগামী হয়। ফলে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোমগুলো v (মেটাসেন্ট্রিক), L (সাবমেটাসেন্ট্রিক), J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) বা I (টেলোসেন্ট্রিক)-এর মতো আকার ধারণ করে। ক্রোমোসোমে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান মাঝখানে হলে ক্রোমোসোম v-এর মতো দেখায়। ক্রোমোসোমে সেন্ট্রোমিয়ার একটু কিনারের দিকে হলে L-এর মতো দেখায়। ক্রোমোসোমে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান প্রান্তের দিকে হলে J-এর মতো দেখায় এবং ক্রোমোসোমে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান একেবারে প্রান্তে হলে I-এর মতো দেখায়।
উত্তর: ঘ. উল্লিখিত ধাপটি মাইটোসিসের অ্যানাফেজ। অ্যানাফেজ ধাপের পরবর্তী ধাপটি টেলোফেজ। কোষ বিভাজনের যে পর্যায়ে অপত্য ক্রোমোসোমসমূহ দুই বিপরীত মেরুতে স্থির অবস্থানে নেয় সে পর্যায়কে টেলোফেজ বলে। এ পর্যায়ে ক্রোমোসোমগুলোতে আবার জলযোজন ঘটে। ফলে এরা ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হয়।
ক্রোমোসোমগুলো ক্রমশ সরু ও লম্বা হতে থাকে। এ পর্যায়ের শেষের দিকে দুই মেরুতে ক্রোমোসোমগুলোর গৌণ কুঞ্চনে নিউক্লিওলাসের পুনঃআবির্ভাব ঘটে। ফলে দুই মেরুতে দু’টি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়। স্পিন্ডল ফাইবারগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিষুবীয় অঞ্চলে লাইসোজোমের ন্যায় ফ্রাগমোসোম জমা হয় এবং পরে এরা মিলিত হয়ে প্লাজমালেমা নামক ঝিল্লির সৃষ্টি করে।
প্লাজমালেমা নামক ঝিল্লির উপর অন্যান্য দ্রব্য জমা হয়ে এটি কোষপ্লেটে পরিণত হয়। কোষপ্লেটের উপর হেমিসেরুলোজ ও অন্যান্য দ্রব্য জমা হয়ে কোষপ্রাচীর গঠন করে। কোষপ্রাচীর গঠনের ফলে মাতৃকোষটি পরবর্তীতে দুই ভাগে ভাগ হয়ে দু’টি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের পরবর্তী ধাপের (টেলোফেজ) বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে কোষ বিভাজনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
ব্যাপক অর্থে শিক্ষা হচ্ছে, সুস্থ দেহে সুস্থ মন
মো. রহমত উল্লাহ্ ,অধ্যক্ষ
কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা
ব্যাপক অর্থে শিক্ষা হচ্ছে, সুস্থ দেহে সুস্থ মন। সুশিক্ষার জন্য প্রয়োজন শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। এজন্যেই খেলাধুলাকে এখন শুধু সহপাঠই নয় কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত ও করা হয়েছে অর্থাত্ খেলাধুলা শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ। খেলাধুলা ব্যতীত শিক্ষার পরিপূর্ণতা অসম্ভব। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থকার জন্য প্রতিটি মানুষের বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের প্রয়োজন নিয়মিত খেলাধুলা।
খেলাধুলার এই গুরুত্ব অনুধাবন করেই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে শারীরিক শিক্ষা নামে একটি পাঠ্যবিষয় কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে শহর কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে তেমন কোন আঙিনা বা খেলার মাঠ না থাকায় বাস্তবে এই ব্যবহারিক বিষয়টির চর্চা করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে যাচ্ছে আবার কোথাও কোথাও উধাও হয়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের শহর কেন্দ্রিক শিক্ষার্থীরা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলা তথা শারীরিক শিক্ষার অধিকার থেকে।
খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত অনেকেই দিনদিন ঝুঁকে পড়ছে নানান রকম অপকর্মে। কেউ কেউ টেলিভিশন ও কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে হয়ে উঠছে চরম অসামাজিক। নিয়মিত করছে না লেখাপড়া, নাওয়া-খাওয়া। ঘুমাতে যাচ্ছে না সঠিক সময়ে। জেগে উঠছে না সকাল বেলা। শারীরিক ও মানসিক ভাবে হচ্ছে না সুস্থ-সবল। ধারণ করছে না প্রয়োজনীয় ধৈর্য্য। মান্য করছে না বড়দের। আদর করছে না ছোটদের। লালন করছে না দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ।
এইরূপ একটি বা দু’টি সন্তান নিয়ে ঘরে ঘরে উদ্ভিগ্ন থাকছেন মা-বাবা,
শুধু বই-খাতা আর ঘরোয়া খেলা দিয়ে সম্ভব নয় তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। অবশ্যই খোলা জায়গায় সৃষ্টি করতে হবে তাদের খেলাধুলার সুযোগ। সচেতন মানুষ মাত্রই স্বীকার করবেন এই বাস্তবতা। অথচ আমরা প্রতিনিয়তই দখল বা জবর দখল করে নিচ্ছি আমাদের সন্তান ও শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য আলো-বাতাসে খেলাধুলা করার প্রতিটি স্থান। এমনকি সরকারি সহায়তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মানের পরিকল্পনাতেও বিবেচনা করা হচ্ছেনা শিক্ষার্থীদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস ও খেলাধুলার স্থান সুরক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি। অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ক্রমাগত বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে আরো দমবন্ধ পরিবেশ। আমাদের সন্তানদের বৃহত্তর স্বার্থে কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না এই অবস্থা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা সুদৃষ্টি দিবেন আশা করি। তদুপরি আসুন আমরা সবাই মিলে সুরক্ষার চেষ্টা করি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস ও খেলাধুলার ন্যূনতম স্থান এবং সেইসাথে তাদেরকে উত্সাহিত করি খেলাধুলায়।
