খেলা শুরু হতে তখনো প্রায় দুই ঘণ্টা বাকি; কিন্তু সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই আরফানের, টিএসসির বাইরে চায়ের দোকানে বসে রয়েছে সে। কোথাও যাবারও খুব একটা তাড়া নেই। আসলে তার মূল উদ্দেশ্য খেলা দেখা। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হবার পর এটি তার প্রায় প্রতিদিনকার রুটিনে পরিণত হয়েছে। বাসায় বিশাল বড় এলইডি টিভি রয়েছে, সেখানে খেলা দেখতে ভাল লাগে না তার। এলাকায় ছেলে-মেয়েরা চাঁদা তুলে প্রজেক্টর এনেছে, বড় পর্দায় খেলা দেখানো হচ্ছে, সেখানেও কি যেন একটা ফাঁক থেকেই যায়, তবে এই টিএসসিতে আসলে পুরো পরিবেশটাই যেন পাল্টে যায়। মনে হয় যেন ঠিক মাঠে বসেই খেলা দেখছি, বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে টিএসসিতে বসে খেলা দেখার এক ফাঁকেই কথাগুলো বলছিলেন আরফান।
ব্রাজিলে বিশ্বকাপ শুরু হবার পর প্রতিবারের ন্যায় এবারেও তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। সারা দেশ ভাসছে বিশ্বকাপ উন্মাদনায়। ছেলে-বুড়ো কেউই বাদ পড়েনি এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস থেকে। সবাইকে একেবারে মাতোয়ারা করে ফেলেছে এই ফুটবল বিশ্বকাপ। পাড়ায় পাড়ায় এরই মাঝে দল গঠন শুরু হয়ে গেছে। পাড়া মহল্লা ছাড়িয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগ। এতোকিছুর ভিড়েও নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে সবার চেয়ে আলাদা ভাবে খেলা দেখার আয়োজন চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে। ছাত্র শিক্ষকের মিলনমেলা বর্তমানে পরিণত হয়েছে সব বয়সী খেলা পাগল মানুষের মিলনমেলায়। শুধু বিশ্বকাপ ফুটবলই নয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটসহ বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল খেলাও বড় পর্দায় দেখানো হয় টিএসসিতে।
আরফানের সাথে কথা বলার এক ফাঁকে নজর পড়ল সামনের দিকে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে খেলা দেখতে এসেছেন একজন। তার সাথে কথা বলে জানা গেল- প্রায়ই সপরিবারে এখানে আসেন তিনি। কথার ফাঁকে ফাঁকে আরো জানালেন, কাজের কারণে দিনের বেলা সময়ই পাওয়া যায় না। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব সবার সাথে ঠিকমতো সময় দিতে পারি না। তাই চিন্তা করেছি- যে কয়দিন এই বিশ্বকাপ চলবে ততদিন সপরিবারে এখানেই খেলা দেখব। আমার সাথে আমার আরো কিছু বন্ধুও মাঝে মাঝেই সপরিবারে যোগ দেয়। তখন আনন্দটা আরো বেড়ে যায়।
টিএসসিতে খেলা দেখা নিয়ে কথা হচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাওনের সাথে। শাওন জানান, সারাদিন ক্লাস করে খুবই ক্লান্ত থাকি তবুও সন্ধ্যা হলেই টিএসসিতে যাওয়ার জন্য মনটা কেমন যেন করে। খেলা দেখার পাশাপাশি আড্ডাবাজিও চলে সমান তালে। কখনো কখনো খেলা দেখে আর আড্ডা দিতে দিতেই রাত পার হয়ে যায়, মাঝে মাঝে তো একদম টেরই পাই না।
