এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের রাজা পেলের দেশে অর্থাত্ ব্রাজিলে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪। ৩২টি দেশ এবার অংশগ্রহণ করবে। আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। কেননা খেলার আসরে দলটিকে আমি মনে করি খুবই শক্তিশালী এবং পাঁচবার বিশ্বকাপ জয় করে তারা এটা প্রমাণও করেছে। আমার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে শামুড় বাড়ি গ্রামে। ব্রাজিলের অসংখ্য পতাকা উড়ছে, পদ্মা পাড়ের এই গ্রামটির অধিকাংশ বাসিন্দাদের বাড়িতে। ব্রাজিলের সমর্থন দেখে আমি এবার বেশ আশাবাদী ব্রাজিলই হয়তো ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের শেষ হাসি হাসবে। তাদের সাম্বা নৃত্যের ছন্দের মধ্য দিয়ে।
আমার ছোট ভাই “সালেহীন আলী শান্ত” ও আমি এবং আমার “মা” আমরা তিনজনই ব্রাজিলের সমর্থক। কিন্তু বাবা আর্জেন্টিনার সমর্থক। ব্রাজিল দ্বিতীয়বারের মত তাদের দেশে বিশ্বকাপ খেলার আয়োজন করছে। আশা করি স্টেডিয়াম ভর্তি ব্রাজিলিয়ানদের সমর্থকদের উপস্থিতির কারণে নেইমাররা মাঠের মধ্যস্থান থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে বল ড্রিবলিং করে নিক্ষেপ করে সোজা গোলপোস্টে ঢুকিয়ে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করবে।
জান্নাতুল ফেরদৌস, প্রথম বর্ষ, অনার্স লালমাটিয়া মহাবিদ্যালয়, ঢাকা।
ছোটবেলাতেই বন্ধুদের সাথে হত ফুটবল খেলা নিয়ে মজার তর্ক-বিতর্ক, দলের পতাকা নিয়ে হৈ-চৈ ছোটাছুটি, বাঁধ ভাঙা উল্লাস আর দল নিয়ে বাজি। কেউ ব্রাজিল, কেউ স্পেন, কেউ ইতালি, কেউ জার্মানি কেউ আবার পর্তুগালের সাপোর্টার। কিন্তু আমার প্রিয় দল ছিল একটাই, সেটা হল আর্জেন্টিনা। কারণ বাবা আর্জেন্টিনার দিয়াগো ম্যারাডোনাকে ভীষণ ভালবাসতেন। ম্যারাডোনার ছবি আমাদের ঘরের দেয়ালে আঁকা রয়েছে।
বিশ্বকাপ ফুটবরের মৌসুম এলেই বাবার সাথে রাত জেগে খেলা দেখতাম। যেদিন আর্জেন্টিনার খেলা থাকত সেদিন অন্য রকম উত্তেজনা সৃষ্টি হত। বাবা প্রায় সময় অতীতের বিশ্বকাপ ফুটবলের গল্প করতেন। ম্যারাডোনার গোল করার রেকর্ড ঘটনা বলতেন। আমি সাদা কাগজে মুহূর্তে একে ফেলতাম আর্জেন্টিনার পতাকা। দু’পাশে হালকা নীল রঙের সারি, মধ্যে সাদা সারি, তার মধ্যে আবার সূর্যের সোনালি হাসি। পাঠ্য বইয়ের মলাটের উপর সে পতাকা আঠা দিয়ে লাগিয়ে রাখতাম, বন্ধুদের দেখাতাম। বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নিওনেল মেসি। সেমিকে আমি খুবই পছন্দ করি।
শাহীন আল ইসলাম, অনার্স ১ম বর্ষ, বাংলা বিভাগ, ঢাকা কলেজ।
আমাদের বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রামগঞ্জ জুড়ে শোভা পাচ্ছে বিশ্বকাপ খেলার বিভিন্ন দলের পতাকা। আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশের শহর ও গ্রামে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক বেশি। আমার ছোট বোন ইতি বিশ্বকাপের খেলার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করে এখন নিয়মিত খেলা দেখছে। সে আমাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে এবং তার সহপাঠীদের নিয়ে এ খেলা উপভোগ করছে। তার জন্য আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা আছে। বিশ্বকাপের খেলা দেখার মজাই আলাদা। আমরা দু’বোন প্রিয় দু’দলের সমর্থক, এ-নিয়ে ছোট বোন আমাকে প্রশ্ন করে আপু তোমার দল কি জিতবে? তার উত্তরে আমি বলি! হারজিত তো থাকবে, তা না হলে কি খেলা হয়। বিশ্বকাপের খেলার আনন্দ, তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া-বিভেদ ভুলে মিশ্র অনুভূতির এক পরম মুহূর্ত। যে যেই দলেরই পক্ষ অথবা সমর্থন করুন না কেন বিশ্বকাপ খেলা দেখার অনুভূতিই আলাদা। এই বিশ্বকাপের খেলায় যারাই জয়লাভ করুক আনন্দ-উল্লাসে ভেসে উঠবে বিশ্বভূখন্ড। জয় ফুটবলের— এ প্রত্যাশা বিশ্বের ফুটবল প্রেমিদের।
ফরিদা ইয়াছমিন সাথী, এইচ এস সি পরীক্ষার্থী, সরকারি মুজিব কলেজ, বসুরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।
