গ্রীষ্মের ছুটি, অর্জন নার্সারিতে পড়ে। সকালে উঠে ‘আমার মা না হয়ে তুমি আর কারো মা হলে’... চরণগুলো আবৃত্তি করছিল।
আবৃত্তি করতে করতে আবৃত্তি আবহ তৈরি হয়ে যাওয়ায়
আমি রবিঠাকুরের মাঝি কবিতাটিরও এক লাইন শিখিয়ে ফেললাম অর্জনকে।
শিল্প অর্জনের ছোট, সে নতুন বই থেকে কবিতা শুনবে।
তাই বের করতে হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর শিশু-কিশোর সমগ্র।
সকালটা খুবই স্নিগ্ধ। আকাশটাও মেঘলা। অর্জন, শিল্প ছাদে যাবে।
বৃষ্টিস্নাত হওয়া তাদের খুবই প্রিয়। প্রকৃতি এখন এমন ক্লান্ত
মুষলধারায় ঝরতে আর পারছে না বলেই মনে হয়।
তবুও আকাশের পানে চেয়ে আছে তারা কখন বৃষ্টি নামবে।
রেল, সারি সারি অট্টালিকা সকলই দেখা যায় ঐখান থেকে।
আচমকা অর্জন চিত্কার করে বলে উঠল বাবা
ঐ দেখ বাংলাদেশের নতুন পতাকা হয়েছে। আমি আতঙ্কে চমকে গেলাম।
মুহূর্তে আমার দৃষ্টি অর্জনের দৃষ্টি সমান্তরালে চলে গেল।
দেখি আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ছে। আমার সমস্ত ইচ্ছাশক্তি লোপ হয়ে গেল।
শরীর শীতল হয়ে গেল তাকে যে বোঝাবো এ বাংলাদেশের নতুন পতাকা নয়।
এটি যে বিশ্বকাপ:ফুটবলের প্রীতির চিহ্ন।
