অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাতারা উইন্ডোজ প্ল্যাটফর্মের স্মার্টফোন তৈরি করলেও বাজারে উইন্ডোজ স্মার্টফোন হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল নকিয়ার লুমিয়া স্মার্টফোন। পরে নকিয়াকেই কিনে নিয়েছে মাইক্রোসফট। ধারণা করা হচ্ছিল, নকিয়া কিনে নেওয়ার পরে মাইক্রোসফট মূলত উইন্ডোজ ফোন বাজারে আনার জন্যই কাজ করে যাবে। তবে নকিয়াকে কিনে নেওয়ার পর মাইক্রোসফট প্রথম যে স্মার্টফোনটি বাজারে নিয়ে আসতে যাচ্ছে, সেটি হবে অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের। নকিয়া এক্সটু নামের এই স্মার্টফোনটিতে অবশ্য মাইক্রোসফট অনেক বেশি জোর দিয়েছে ক্লাউডনির্ভর বিভিন্ন সেবার ওপর। মাইক্রোসফটের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার আগে নকিয়া যে এক্স মডেলের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন প্রদর্শন করেছে, সেই সিরিজেরই নতুন সংযোজন এই এক্সটু। এতে রয়েছে ৪.৩ ইঞ্চি আকৃতির ডিসপ্লে, ১.২ গিগাহার্জ ডুয়াল কোর স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর, ১ গিগাবাইট র্যাম, শক্তিশালী ব্যাটারি, ডুয়াল সিম ও মাইক্রোএসডি কার্ড সমর্থন। আগের নকিয়া এক্স সিরিজে ফ্রন্টফেসিং ক্যামেরা না থাকলেও এক্সটুতে ৫ মেগাপিক্সেল রেয়ার ফেসিং ক্যামেরার সাথে সাথে যুক্ত করা হয়েছে সেই ক্যামেরা। এর বাইরে মাইক্রোসফট এক্সটুতে বিল্ট-ইন হিসেবে যুক্ত করছে তাদের জনপ্রিয় ভিডিও চ্যাটিং অ্যাপ স্কাইপ, ইমেইল সেবা আউটলুক এবং ক্লাউড স্টোরেজ ওয়ানড্রাইভ। এ ছাড়া সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে বিং, ব্যবসা-কেন্দ্রিক সোস্যাল নেটওয়ার্ক ইয়াম্মার, কোলাবরেটিভ অ্যাপস হিসেবে ওয়াননোট, নকিয়ার হেয়ার ম্যাপ এবং মিক্সরেডিও এসব অ্যাপও থাকছে এক্সটুতে। এর বাইরেও অন্যান্য অ্যাপস তো থাকছেই। ক্লাউডনির্ভর অ্যাপগুলো থাকার কারণে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের তুলনায় নকিয়া এক্সটু অনেকটাই এগিয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মাইক্রোসফটের মোবাইল ফোন মার্কেটিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাসি নিভানলিনা। ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, কেনিয়া এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোতে নকিয়া এক্স যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাই মাইক্রোসফট আশা করছে এক্সটুও জনপ্রিয় হবে। এর দাম রাখা হয়েছে ৯৯ ইউরো বা ১৩৫ মার্কিন ডলার।
