আলবত্ সুখবর। গোটা দেশ হইতে রাত্রির অন্ধকার সরিয়া যাইতেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের যেইসব পরিবার কল্পনাও করিতে পারে নাই যে একদিন বৈদ্যুতিক বাতির আলো উপভোগ করিতে পারিবে, তাহাদের বাড়ির দুয়ারে এখন বিদ্যুতের আলো ঝলমল করিতেছে। বড়ই দ্রুত এই কর্মটি সম্পন্ন করিয়াছে বর্তমান সরকার। বিশ্বব্যাংক উহার বৈশ্বিক ‘এনার্জি প্রগ্রেস রিপোর্ট-২০১৯’-এ বলিয়াছে, বাংলাদেশে ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় চলিয়া আসিয়াছে। ইহা প্রশংসনীয়। বৃহত্ জনগোষ্ঠীর দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ, কেনিয়া, মিয়ানমার ও সুদান এই খাতে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করিয়াছে; কিন্তু বাংলাদেশের অগ্রগতি সর্বাধিক। এই অগ্রগতির জন্য তাহারা বাংলাদেশের সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করিয়াছে। সেইসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ইহাও স্মরণ করাইয়া দিয়াছে যে, যেই সমস্ত দুর্গম এলাকায় এখনো বিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছায় নাই, যেই দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই সুবিধার বাহিরে রহিয়া গিয়াছে, তাহাদেরকে বিদ্যুতের আওতাধীন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হইয়া দেখা দিবে।
ইহা স্বীকার করিতে হইবে যে, বর্তমান সরকার বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং বিদ্যুত্ বিতরণ বিষয়ে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিল তাহা যে প্রকারেই হউক রক্ষা করিয়াছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী গত ২১ মে সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ ১২,৪১৯ মেগাওয়াট উত্পাদনের রেকর্ড গড়িয়াছে। আর উত্পাদন ক্ষমতা হইয়াছে ২১,৪১৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা রহিয়াছে ৩ কোটি ৩২ লক্ষ। তাহার পরও কিছু কথা থাকিয়া যায়। বিদ্যুতের সিস্টেম লস হইতেছে ১১.৮৭ শতাংশ, আর বিতরণ লস ৯. ৬০ শতাংশ। অর্থাত্ ২১ শতাংশের বেশি লস রহিয়াছে। এই লস কমাইয়া আনিলে বিদ্যুতের শক্তি আরো বাড়িবে। এই লস কমাইতে প্রয়োজন প্রশাসনিক নজরদারি এবং সতর্কতা। ইহা ছাড়াও বিভিন্ন কারণে বিদ্যুতের মূল্যও বেশি গুণিতে হইতেছে।
আধুনিক যুগে বিদ্যুত্ সরবরাহ একটি অপরিহার্য সেবাব্যবস্থা। শুধু ঘরবাড়ি আলোকিত করিবার জন্যই নহে, নির্বিঘ্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যতিরেকে শিল্প, কৃষিশিল্প, সেবামূলক উত্পাদনসহ সব ধরনের উন্নয়ন স্থবির হইয়া যায়। পৃথিবীব্যাপী যে সমস্ত দেশ শিল্পে, কৃষিতে, আমদানি-রপ্তানিতে উন্নতি সাধন করিয়াছে তাহাদের সর্বাগ্রে বিদ্যুত্ উত্পাদনে স্বাবলম্বী হইতে হইয়াছে। বাংলাদেশ পূর্বে ছিল একটি কৃষিনির্ভর দেশ; কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ভূমিকা রাখিতেছে রপ্তানি। এই ক্ষেত্রে পোশাকশিল্প রহিয়াছে সর্বাগ্রে, যাহার জন্য নির্বিঘ্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ প্রয়োজন। সুতরাং বিদ্যুতে আমাদের আরও স্বাবলম্বী হওয়ার প্রয়োজন রহিয়াছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা পরমাণু বিদ্যুত্ উত্পাদনে সক্ষম হইব। পরমাণু বিদ্যুত্ প্রকল্প সম্পন্ন হইলে বিদ্যুত্ কেবল পর্যাপ্তই হইবে না, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যও কমিবে বলিয়া আমাদের আশা।
