জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন

শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ২১:৩১

জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ২৯ মে প্রথম বারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিরক্ষী মোতায়েন করে। এপর্যন্ত জাতিসংঘ বিশ্বের ৭১টি দেশে সর্বমোট ১০ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েন করেছে শত শত কোটি মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে।

বিশ্বব্যাপী শান্তি, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংবিধানে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে সেখান থেকেই বিশ্ব শান্তিরক্ষায় আমাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি উত্সারিত। তাছাড়া ১৯৭১ সালে শান্তি, গণতন্ত্র ও সর্বোপরি দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগও বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অন্যতম কারণ। তাছাড়া, আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল মন্ত্র হচ্ছে : সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। এভাবেই রাষ্ট্রীয় আদর্শ অনুযায়ী বিশ্ব শান্তিরক্ষায় আমাদের কাজ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৯৮৮ সালে ইরাক-কুয়েতে ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক প্রেরণের মধ্যদিয়ে সর্বপ্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। ১৯৮৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষী প্রেরণের পর বাংলাদেশ সবসময়ই শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মর্যাদা পেয়ে আসছে। ২০০০ সালের প্রথমদিকে বাংলাদেশ প্রথম শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মর্যাদা পায়। এধারা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতহীনতা, পেশাদারিত্ব, উচ্চমানের শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেসব দেশে সৈন্য প্রেরণ করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:কম্বোডিয়া, কুয়েত, হাইতি, বসনিয়া, পশ্চিম সাহারা, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, আইভরি কোস্ট, কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকা, মালি, সোমালিয়া, উগান্ডা, নামিবিয়া, মোজাম্বিক, জর্জিয়া, ইথিওপিয়া/ ইরিত্রিয়া, বুরুন্ডি, সোমালিয়া, রুয়ান্ডা, চাদ, পূর্ব তিমুর, আফগানিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, ইরান, ইরাক, সাউথ সুদান ও দারফুর (সুদান )।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এযাবত্ ৪০টি দেশে মোট ৫৪টি মিশন সম্পন্ন করেছে। আর মিশন সম্পন্নকারী শান্তিরক্ষী হচ্ছেন এক লাখ ৩২ হাজার ৮৩৭ জন। বর্তমানে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও অন্য নয়টি মিশনে মোট পাঁচ হাজার ৭৮ জন সেনা সদস্য কর্মরত আছে। দেশগুলো হচ্ছে কঙ্গো, লেবানন, সাউথ সুদান, দারফুর, পশ্চিম সাহারা, মালি, মধ্য আফ্রিকা, হাইতি ও সুদান। এযাবত্ ৩১১ জন মহিলা শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ মিশন সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে ৬৮ জন কর্মরত আছেন। জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেনা বাহিনীর ১১৭ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২০৯ জন। জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মোট ছয়জন কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া সেক্টর কমান্ডার/ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ৫১ জন অফিসার। ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সালাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান, লে. জেনারেল আবু তৈয়ব মোহাম্মদ জহিরুল আলম, মেজর জেনারেল আব্দুল হাফিজ, মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্রুত উত্থান দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত/প্রচারিত হচ্ছে এবং বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের মহলে আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে। বাংলাদেশি সেনা সদস্যদের দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পাচ্ছে।

n লেখক :সহকারী পরিচালক, আইএসপিআর