ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু হওয়া দরকার

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ২১:৩২

বিদেশিসহ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংখ্যক যাত্রী থাকা সত্ত্বেও ঈশ্বরদীতে বিমানের ফ্লাইট চালু না থাকায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র, ঈশ্বরদী ইপিজেড, পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় অফিসসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দেশি-বিদেশি কর্মচারী আছেন, যাঁরা বিমানে ভ্রমণ করতে চান। একইভাবে ঈশ্বরদীসহ নিকটস্থ এলাকার বিভিন্ন পেশার প্রায় ১৫/২০ হাজার বিমানযাত্রী রয়েছেন। পঞ্চান্ন বছর আগে পাকিস্তান আমলে নির্মিত ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটিতে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট চলাচল করত। স্বাধীনতার পরও বেশ কিছুদিন চালু ছিল এবং যাত্রীসংখ্যাও ছিল পর্যাপ্ত। পার্শ্ববর্তী পাবনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও নাটোরের যাত্রীরা ঢাকাতে যাতায়াত করতেন ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে। এরশাদ সরকারের আমলে রাজশাহীতে নতুন বিমানবন্দর চালু করার পর যাত্রী সংকটের অজুহাত দেখানো শুরু হলে ১৯৮৭ সালে এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সূত্রমতে, ঈশ্বরদীসহ নিকটস্থ এলাকার যাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে বিমান চলাচল শুরু হয়। এর তিন বছর পর ১৯৯৬ সালের ৩ নভেম্বর লোকসানের অজুহাতে পুনরায় বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঈশ্বরদী অঞ্চলের মানুষের দাবিতে ১৯৯৮ সালের ১০ মে বেসরকারি এয়ারলাইন্স এয়ার পারাবতের ফ্লাইট চালু করা হয়। মাত্র ৩৮ দিন চলার পর ২৮ জুন এই সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও বিমানের ফ্লাইট উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু ৬ মাস ১১ দিন পর বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখা এবং রূপপুর পারমাণবিক মেগা প্রকল্প ও রেলওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নানা কারণেই ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি চালু করার বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি ৪৩৫ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৭০০ ফুট ও প্রস্থ ৭৫ ফুট। এখানে যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও প্রাইভেট কোম্পানির হেলিকপ্টার প্রায় প্রতিদিনই চলাচল করে। তাই ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি দ্রুত চালুর ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।

এস এম সাইদুর রহমান উলু, ঈশ্বরদী, পাবনা