বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল¬্যাম উইম্বলডন শুরু হয়েছে গত রবিবার থেকে। তবে সবচেয়ে রাজসিক এই গ্র্যান্ড স্ল্যামেও লেগেছে বিশ্বকাপের হাওয়া। লিওনেল মেসি-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা কি করছেন তার খবর নিয়মিতই রাখছেন টেনিসের শীর্ষ তারকারাও। রাফায়েল নাদাল, নোভাক জোকোভিচ কিংবা অ্যান্ডি মারেরা নিজেদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভাবছেন প্রিয় দলের পারফরম্যান্স নিয়েও। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনগুলোতেও নিজেদের ম্যাচকে ছাপিয়ে তারকাদের ফুটবল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আগ্রহের জবাব দিতে হচ্ছে।
বৃটিশ তারকা মারের উপর এবারও স্বাগতিকদের সব প্রত্যাশা নির্ভর করছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হতাশাজনক বিদায়ের পরে এখন ২৭ বছর বয়সী এই তারকাকে ঘিরে ইংলিশদের আকাঙ্ক্ষার পরিমাণটা যেন আরো বেড়েছে। তিনি নিজেও বিশ্বকাপ আলোচনায় নিয়মিতই অংশ নেন জানিয়ে মারে বলেন, ল’কার রুমে সকালে আসার পরপরই সবাই বিশ্বকাপ নিয়েই আলোচনা করে। এমনকি খেলোয়াড়রা পর্যন্ত নিজ নিজ দেশের ম্যাচ নিয়ে দারুণ সব আলোচনায় মেতে উঠেন। বিশ্বকাপের মত আসর হলে তো কথাই নেই, সকলেরই আগ্রহ থাকে এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে।’
সোমবার অল ইংল্যান্ড ক্লাবে নিজের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নেমেছেন মারে। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পারফরমেন্স সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এই স্কটিশ বলেছেন, ‘আমি মনে করি না যে ব্রাজিলে ইংল্যান্ড খুব বাজে খেলেছে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটির তুলনায় ইতালির বিপক্ষে ইংল্যান্ড ভাল খেলেছে। আমি ফুটবল বেশ পছন্দ করি এবং প্রচুর খেলাও দেখি। বিশেষ করে বিশ্বকাপ শুরু হলে আমি খুব উপভোগ করি। উইম্বলডনে আমার খেলা নিয়ে কে কি বলছে সেদিকে এখন আর আমার নজর নেই।’
কোর্টে বড় প্রতিযোগী হলেও কোর্টের বাইরে রাফায়েল নাদালের সঙ্গে মারের সম্পর্কটা বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে বন্ধুর দেশ স্পেনের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরে মারে বলেন, ‘গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন স্প্যানিশের মুখ প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। তাদের জন্য আমার খারাপই লাগছে।’
তবে খেলাধুলায় সাফল্যের পর ব্যর্থতাও অবশ্যম্ভাবী বলে জানান মারে। পরাজয়ের দায়ভার কাঁধে নিয়ে দেশের বিমান ধরা স্প্যানিশ কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের পক্ষ নিয়ে মারে বলেন, ‘হয়তবা বিশ্বকাপের জন্য সে দলীয় পরিবর্তনে আগ্রহী হননি। কিন্তু এখন তার হাতে দলে আমূল পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। তবে সত্যিই এটা হতাশাজনক যে কোচ, খেলোয়াড় এবং সমর্থক কেউই এবারের বিশ্বকাপটা উপভোগ করতে পারলো না। উইম্বলডনের শীর্ষ বাছাই সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচ বিশ্বকাপে তার ফেভারিট দলের তালিকায় বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং গ্রীসকে এগিয়ে রেখেছেন। তার মতে ব্রাজিলের আবহাওয়া দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোকে সহযোগিতা করবে। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় বিস্ময় হিসেবে কোস্টারিকাকে তিনি বেছে নিয়েছেন।
এদিকে মহিলা এককের হট ফেভারিট মারিয়া শারাপোভা বলেন, এমনিতে ফুটবল খুব একটা না দেখলেও বিশ্বকাপ উত্তেজনায় এবার আক্রান্ত তিনিও। রাশিয়ান গ্ল¬্যামার গার্ল শারাপোভা মজা করে বলেন, ‘আমি কখনই ফুটবলের খুব বড় ভক্ত ছিলাম না। তবে দল বেঁধে খেলা দেখা আমি উপভোগ করি। বেশিরভাগ সময়ই দেখা গেছে প্রায় পুরোটা ম্যাচ দেখার পরে কোন গোল হয়নি। কিন্তু যখনই আমি চায়ের জন্য উঠে গেছি ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি গোল হয়েছে এবং আমি সেটা দেখতে পারিনি।’
এদিকে টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে শুরু করেছেন মহিলা এককের দুই তারকা অগনেইস্কা রাদওয়ানস্কা ও ক্যারোলিন ওজনিয়াকি ও স্যাবাইন লিসিকি। পুরুষ এককের প্রথমদিনের খেলায় জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপাধারী স্তানিস্লাস ওয়াওরিঙ্কা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জয়ের পথে ছিলেন রেকর্ড ১৭ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপজয়ী রজার ফেদেরারও।- বাসস
