জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামে নতুন খাল খনন হচ্ছে

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৪, ২২:০৪
চট্টগ্রামে ভারিবর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের আওতায় বহদ্দারহাট বারইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন করা হবে। ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া বৃষ্টির পানি যাতে দ্রুত নেমে যেতে পারে সেজন্য শহরের খালগুলো পুনর্খনন এবং কিছু নতুন খাল খনন করা হবে। পানি ধরে রাখার জন্য কিছু পুকুর খননও করা হবে প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৪ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, উল্লেখিত প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে দুই দশমিক নয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ও ৬৫ ফুট প্রস্থের খাল খনন করা হবে। এছাড়া খালের উভয় পাশে ২০ ফুট প্রস্থের রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। যাতে যানচলাচলসহ খালটি সহজে পরিষ্কার এবং আশপাশের যানজট দূর করা যায়। একনেকে গতকাল ৫০৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার মোট ৩টি প্রকল্প অনুমোদন করা করেছে। মোট প্রকল্প বরাদ্দের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ও সংস্থার নিজস্ব তহবিলের পরিমাণ ৭৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ৩টি প্রকল্পই নতুন প্রকল্প। একনেক সভায় কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। ৮৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৪ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত। কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে বন্দর ব্যবহারকারীদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদান ও মংলা বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের পর কার্গো হ্যান্ডলিং-এর পরিমাণ প্রতি বছর ৫-১০% হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। খুলনা-মংলা রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্প সম্পন্ন হলে মংলা বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং-এর পরিমাণ প্রতিবছর ১৭% হারে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ঢাকার পানগাঁও এ ইনল্যান্ড কন্টেইনার টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে মংলা বন্দর হতে কন্টেইনার পরিবহন সম্ভব হবে। জরুরি ও প্রাকৃতিক কারণে চট্টগ্রাম বন্দর অচল হয়ে পড়লে মংলা বন্দর একমাত্র বিকল্প হিসেবে ব্যবহূত হবে। মেয়র মঞ্জুরকে দুষলেন পরিকল্পনামন্ত্রী চট্টগ্রামে জলবদ্ধতার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম মঞ্জুর আলমকে দুষলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রস্তাব নিয়ে তিনি (মেয়র মঞ্জুর) আমাদের আছে আসেন না। তারপরও আমার চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রকল্প নিচ্ছি। আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে বিএনপি সমর্থিত মেয়র কাজ করতে পারছে না।