এফডিআই বেড়েছে প্রায় ২৪ ভাগ

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৪, ২২:০৫
রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশে ২০১৩ সালে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। গেল বছর এই বিনিয়োগ বেড়ে ১৫৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ১২৯ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিনিয়োগ বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ইসমাইল হোসেন। বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সভাপতি এসএ সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই- ইলাহী চৌধুরী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল বছরে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০১২ সালে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছিল ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থাত্ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী। এদিকে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়লেও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে (এলডিসি) এটা বেশিমাত্রায় কমেছে। প্রতিবেদন বলা হয়, ২০১৩ সালে এফডিআইয়ের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ২০১২ সালের মতো দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এফডিআই প্রাপ্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ২০১৩ সালে দেশটিতে মোট বিনিয়োগ হয়েছে ২ হাজার ৮১৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৩ সালে বিশ্বে এফডিআই ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৪ সালে আঙ্কটাড প্রকল্পের আওতায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০১৬ সালে তা ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার পরও গেল বছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এফডিআই প্রাপ্তির দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরে বাংলাদেশের অবস্থানকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশা করছি, আগামী বছর এফডিআই প্রাপ্তি ৫০ শতাংশ বেড়ে দুই থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার হবে। তবে এজন্য অবকাঠামো খাতের ব্যাপক উন্নতি দরকার হবে। সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, সরকার বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ, মায়ানমার ও চীন সমন্বয়ে অর্থনৈতিক করিডোর খোলার কৌশল নিয়েছে। ইতোমধ্যে চীন ও জাপানের কাছে বাংলাদেশ ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে। বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সভাপতি এসএ সামাদ বলেন, বিনিয়োগ বেশি হলে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিও সেই হারে বেড়ে যাবে। গত ৫ বছরে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সব সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের ব্যবসায়ীরাও এখন বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছেন, যা এফডিআই বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুতে স্থানীয় বিনিয়োগ হলে একে কেন্দ করে বিপুল পরিমাণ এফডিআই আসবে বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে টেলিকমিউনিকেশনে ৩২ কোটি ৪০ লাখ ডলার, পোশাক খাতে ৪২ কোটি ২০ লাখ, ব্যাংকিং খাতে ৩২ কোটি ৭০ লাখ, জ্বালানি খাতে ৯ কোটি ৯০ লাখ, খাদ্য ৪ কোটি, মত্স্য ও কৃষি খাতে ৩ কোটি ১০ লাখ এবং অন্যান্য খাতে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে। এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই এসেছে চীনে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর, তৃতীয় ভারত।