স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গ্রামে থেকে ডাক্তারদের চিকিত্সা দেয়ার জন্য আবারো আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, চিকিত্সকদের গ্রামে রাখতে যা করা দরকার তার সবই করা হবে। একজন টিএনও গ্রামে থাকতে পারলে ডাক্তাররা পারবে না কেন? প্রয়োজনে ডাক্তারদের আবাসিক সুবিধা, চলাচলের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা, তিন বছর গ্রামে থাকলে ভাল পোস্টিংসহ বিশেষ প্রণোদনারও ব্যবস্থা করা হবে। তারপরও কর্মস্থলে না থাকতে চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারণ আমি জনগণের মন্ত্রী, জনগণের কাছে জবাবদিহি আমাকেই করতে হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় রূপসী বাংলা হোটেলে ‘হাই লাইটস অব ই অ্যান্ড এম-হেলথ প্রোগ্রামস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। ২৩ জুন থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক স্বাস্থ্য ইনফরমেটিক্স সম্মেলনের অংশ হিসাবে এই সেমিনার আয়োজিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউবিএস অপটিমাস ফাউন্ডেশন, জিআইজেড-এর সহায়তায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগ এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বার বার গ্রামের মানুষের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন। ডাক্তাররা যদি হাসপাতালে থেকে সেবা না দেন তাহলে দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কোনো কর্মসূচিই সফল হবে না।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমপ্লেক্স গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আজ তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে গ্রামের ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ ধরনের ওষুধ মানুষ বিনামূল্যে পাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ফিলিপাইনের ডেপুটি মিনিস্টার ফর হেল্থ ডা. পেডোরো হারবোসা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ, নূরুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই সারাদেশে সাড়ে ৬ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেয়া হবে। ইতিমধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধান রয়েছে। আর এই পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল সাড়ে ৬ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এ বিষয়টি আসার পরে তিনি তাত্ক্ষণিক জটিলতা নিরসনের নির্দেশনা দেন।
