স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান দলকে নিয়ে কোনো আলোচনাই নেই। আলোচনা হবে কি করে! সর্বশেষ নয়টি ওয়ানডের সবগুলোই যে হেরেছে দলটি। যদিও, দেশটির সাবেক তারকা পেসার ওয়াকার ইউনুস মনে করছেন, যেভাবে সবাইকে চমকে নিয়ে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান, এবারো দলটি তেমন কিছু একটা করে বসতে পারে।
তিনি আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ২৭ বছর কেটে গেছে। এখন পাকিস্তান যেমন করছে, ওই সময়টাতেও ঠিক তাই ছিল। পাকিস্তানকে কেউ হিসাবে রাখছিল না। আমরা আন্ডারডগ হিসেবে বিশ্বকাপে গিয়েছিল। তবে, একবার যখন আমরা মোমেন্টামটা ধরতে পেরেছিলাম, তখনই পাকিস্তান ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য বের হয়ে এসেছিল।’
যদিও, সেই বিশ্বকাপে খেলা হয়নি ওয়াকারের। কারণ, বিশ্বকাপের ঠিক আগেই ইনজুরিতে পড়েছিলেন সেই সময়ে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসারদের একজন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে ওয়াকার বলেন, ‘আমি বিশ্বকাপ দলে ছিলাম না, কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে আমি ইনজুরিতে পরি। তবে, দল যখন দেশে ফিরে সেই সময়ের স্মৃতি আজো মনে আছে। পুরো দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে গিয়েছিল। ট্রফি নিয়ে দল গোটা শহরে প্যারেড করেছিল। সেটা ছিল উত্সবমুখর একটা সময়। আশা করি, এবারো তেমন কিছুই হবে।’
২৬২টি ওয়ানডেতে ওয়াকার ৪১৬টি উইকেট নিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারে। আর ৮৭টি টেস্টে পেয়েছেন ৩৭৩টি উইকেট। তিনি আধুনিক ক্রিকেটের সেরা ফাস্ট বোলারদের একজন। তিনি পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দল প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি মনে করি পাকিস্তান দলটা এবার আন্ডারডগ হিসেবে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। ওদের ভাল একটা সূচনা দরকার। যদি, কয়েকটা ম্যাচ হেরে যায়, তাহলে পরে টিকে থাকাটা কঠিন হবে।
সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি সরফরাজ আহমেদের দল। এর আগে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, সেটাও আবার হোম কন্ডিশনে। সেই হারের স্মৃতি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে বললেন ওয়াকার, ‘যদি ভালো একটা সূচনা না আসে তাহলে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার স্মৃতি পাকিস্তানকে পেয়ে বসতে পারে। জয়ের ধারাবাহিকতাটা শুরুতেই আসতে হবে, তা না হলে শেষের দিকে নার্ভ ধরে রেখে টিকে থাকাটা কঠিন হবে।
২০১৭ সালে এই ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর পাকিস্তান যে সাতটি সিরিজ খেলেছে, তার মধ্যে জিতেছে কেবল দুটিতে। সেটাও আবার খর্বশক্তির দুই দল শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আর হেরে যাওয়া পাঁচটি সিরিজের মধ্যে তিনটিতেই হোয়াইটওয়াশ হয়েছে সরফরাজ বাহিনী।
যদিও, দলের প্রতিভা ও সক্ষমতার ওপর ভরসা রাখছেন ওয়াকার। তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক ব্যাপার হল পাকিস্তান দল বড় স্কোর গড়া শুরু করেছে। তারা দেখিয়েছে যে ৩০০-এর ওপর রান তোলা তাদের জন্য কোনো ব্যাপার নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটাই আমরা দেখেছি। ব্যাটসম্যানরা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে পেরেছে।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে কয়েকটা পরিবর্তন এসেছে। অভিজ্ঞ পেসার ওয়াহাব রিয়াজের সাথে ফিরিয়ে আনা হয়েছে প্রতিভাবান মোহাম্মদ আমিরকে। এই দু’জনের ওপর ভরসা রাখছেন ওয়াকার।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের বোলিং সঠিক পথেই আছে। ওয়াহাব রিয়াজ আর আমিরকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আমি বিশেষ করে আমিরকে দেখার জন্য মুখিয়ে আছি। ও সত্যিকারের ম্যাচ উইনার। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ও ছন্দে ফিরলেই পাকিস্তানের ভোল পাল্টে যেতে পারে।
আগামী শুক্রবার, ৩১ মে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পাকিস্তান। এই ম্যাচকে সামনে রেখে ৪৭ বছর বয়সী ওয়াকার বলেন, ‘এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ হবে। দুটি দলের ব্যাপারেই আগাম কিছু বলা যাবে না। ফলে, কি হতে যাচ্ছে সেটা আগাম অনুমান না করেই খেলা দেখতে বসতে হবে।’
