চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থবছরের এগার মাসে জুলাই-মে পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি আদায় হয়েছে মাত্র ৩৪৬ কোটি ১২ লাখ ডলার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র পাওয়া গেছে। চলতি অর্থবছর প্রায় ৬’শ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিশ্রুতি আদায়ে পিছিয়ে থাকলেও অর্থছাড়ে লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছে রয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরে সরকারের অর্থছাড়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৯৫ কোটি ডলার। মে মাসে পর্যন্ত ছাড় হয়েছে ২৬১ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে প্রতিশ্রুতি কমলেও বেড়েছে অর্থছাড়। এ সময়ের তুলনায় প্রতিশ্রুতি কমেছে ২১০ কোটি ডলার। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ সময়ে প্রতিশ্রুতি ছিল ৫৫৬ কোটি ১৬ লাখ ডলার। অন্যদিকে গত অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ২২৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এ সময়ের তুলনায় অর্থছাড় বেড়েছে ৩২ কোটি ১৬ লাখ ডলার।
এদিকে চলতি অর্থবছর সরকার বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দাতাদেশকে সুদ ও আসল পরিশোধ করেছে ১০২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সুদাসল পরিশোধের পর বাংলাদেশের প্রকৃত প্রাপ্তি বা নীট অর্থছাড় হয়েছে ১৫৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার। ইআরডি সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের আলোচ্য সময়ে ঋণ বাবদ অর্থছাড় হয়েছে ১৯৬ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। আর অনুদানের হিসেবে ছাড় হয়েছে ৬৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। অর্থবছরের ১১ মাসে ঋণ হিসাবে ২৯৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এবং ৪৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি আদায় হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের অধীনে ট্রাস্টফান্ড থেকে অনুদান ছাড় হয়েছে ১১ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ১৬ কোটি ১৭ লাখ ডলার, জাতিসংঘের সংস্থাগুলো ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার, জার্মান সরকার ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার এবং যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডি ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার অনুদান ছাড় করেছে।
অন্যদিকে ঋণ হিসাবে বিশ্বব্যাংক ৫৯ কোটি ৯৮ ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৪২ কোটি ৩৪ লাখ ডলার, জাপান ৩৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার ঋণ ছাড় করেছে, চীন ৪৩ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং ভারত ৬ কোটি ডলার অর্থছাড় করেছে।
