রাজধানীতে সুপারস্টোরগুলো নজর কাড়ছে সকলের। কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য, পরিবেশ ও ক্রয়সীমার মধ্যে থাকা পণ্যের কারণে উচ্চবিত্তের পাশাপাশি এখন মধ্যবিত্তরাও আকৃষ্ট হচ্ছে এসব সুপারস্টোর। কেবল রাজধানী নয়, সুপারস্টোর ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। আর এসব সুপারস্টোরের ব্যবস্থাপনার দায়-দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে তরুণ-তরুণীরা, কিছুদিন আগেও যা ভাবা যেত না। এখন সুপারস্টোরগুলোতে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক পেশাদারিত্বের ছাপ। আর তা সম্ভব হচ্ছে বিপণনে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের জন্য। সুপারস্টোরগুলোতে গেলেই দেখা যাবে এসব তরুণ-তরুণী বাড়িয়ে দিচ্ছে সেবার হাত।
বাংলাদেশের বৃহত্ রিটেইল চেইন স্বপ্নে এসব সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীরা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ছে। আর রিটেইল চেইনে তরুণ-তরুণীদের অপার সম্ভাবনার কথা বলেছেন বিপণনে বিশেষ করে লজিস্টিক এবং সাপ্লাই চেইনে বিশেষজ্ঞ সাব্বির হাসান নাসির। বুয়েট থেকে প্রকৌশলীতে পড়াশোনা করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। তিনি বাটা, টেটরাপ্যাক, অটবির মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। বর্তমানে এসিআই লজিস্টিকসের (স্বপ্ন) নির্বাহী পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিপণণে গুণগত মান রক্ষায় স্বপ্ন ইতোমধ্যেই সবার নজর কেড়েছে। এ ধরনের রিটেইল চেইনে কাজ করার ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা আগ্রহী হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে সাব্বির হাসান নাসির বলেন, ‘বাংলাদেশে চাকরি ক্ষেত্রে রিটেইল খাতে আমি অনেক সম্ভাবনা দেখি। বিপণন, বিক্রি, সাপ্লাই চেইন থেকে আসা তরুণদের অনেক সম্ভাবনা আছে এই খাতে। তারা বাজারের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে জানে এবং এটাও জানে কীভাবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়। এমনকি দেশেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিশ্বমানের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে তা প্রয়োগ করতে পারছে। রিটেইল চেইন স্বপ্নে আমরা সেরকম মান এবং নীতি অনুসরণ করি।’
সঠিক নির্দেশনা পেলে তারা আরও ভালো করবে বলে বিশ্বাস নাসিরের। তিনি বলেন, ‘লজিস্টিকস এবং সাপ্লাই চেইন ম্যানেজম্যান্টের কার্যক্রমগুলো প্রায় একই রকম। বাংলাদেশে খুব কম প্রতিষ্ঠানই আছে যেখানে পড়ালেখা করে এসব ডিপ্লোমা পাওয়া যায়। এসব বিশেষ কোর্সগুলো কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক।’ তিনি আরও বলেন, ‘রিটেইল ব্যবসার মৌলিক বিষয় হচ্ছে ব্যবসা পরিকল্পনা, কৌশল এবং উন্নয়ন, রিটেইল ব্র্যান্ড উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন। এ ছাড়া ফ্যাশন ডিজাইনিং, পণ্য উন্নয়ন, ভিজ্যুয়ালাইজিং ইত্যাদি প্রযুক্তি সংক্রান্ত সৃজনশীল কাজ এ ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব বিষয় রিটেইল সুপারমার্কেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।’
বর্তমান বাজারে রিটেইল চেইনের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা বলতে গিয়ে নাসির বলেন, ‘বাজার ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই খাতের বাজারের আকার প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২৫০ কোটি টাকার। বাংলাদেশের সুপার মার্কেট মালিক সমিতি এ নিয়ে একটি জরিপ করেছে। ওই জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাজারের আকার ১৪শ থেকে ১৫শ কোটির মতো। আমরাও কিছু জরিপ করেছি যার পরিমাণ প্রায় এরকমই। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে রিটেইল সুপারস্টোরের অবদান প্রায় ১.২৫ থেকে ১.৫ শতাংশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অসংগঠিত কেনাবেচায় ক্রেতারা স্বচ্ছন্দবোধ করে। আমি মনে করি এ ব্যাপারটির সাথে প্রতিযোগিতার বিষয়টি এ শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্যই পর্যাপ্ত পরিধি ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজন। কিন্তু জনবহুল এলাকাতে এ সুবিধা পাওয়া রীতিমত অসম্ভব। এ কারণে পণ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বিভিন্ন ভাবে শপগুলোর ডিজাইন করতে হয়। স্বপ্নে আমরা স্থানীয় বাজারের আবহ রাখি যেন ক্রেতারা শপিং এ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ এবং অভিজ্ঞতার অভাব আছে। স্বপ্নে যারা কাজ করে তাদের আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। আমাদের দক্ষ ও মেধাবী তরুণ কর্মকর্তা প্রয়োজন যারা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে কাজ করতে পারবে।’ বাজারে স্বপ্নের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের ৪৬টিরও বেশি শপ আছে। রাজধানীর উত্তরাতে আমাদের হাইপার-স্টোর আছে যা ইতিমধ্যেই গণমাধ্যম আর জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমাদের প্রতিযোগীরা আকর্ষণীয় ক্যাম্পেইন নিয়ে আসছে। এ ছাড়া আমাদেরকে স্থানীয় বাজারের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়।’
দক্ষ মানবসম্পদের বিষয়টি বাংলাদেশকে ঘিরে বেশি উচ্চারিত হয়। এ শিল্পেও এর ব্যতিক্রম নেই। এ ব্যাপারে সাব্বির হাসান নাসির বলেন, ‘এ শিল্পে আমাদের বড় আকারের মানবসম্পদ প্রয়োজন। সামনের দিনগুলোতে চাহিদা আরও বাড়বে। কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্ণ দক্ষতার মানুষের সংখ্যা অনেক কম। বাজারের প্রসার বাড়ার সাথে সাথে আরও দক্ষ মানবসম্পদের আশা করছি আমরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা বিপণন, বিক্রয়, সাপ্লাই চেইন, পরিকল্পনায় ক্যারিয়ার গড়তে চায়- মার্কেটিং রিটেইল দিয়ে শুরুটা তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো। এ শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ যদি বড় মন এবং যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে তবে সে যেকোনো দিকে এগিয়ে যাবে। একইসঙ্গে সফটওয়্যারে দক্ষ জনশক্তিও আমাদের প্রয়োজন। গ্রাফিক্স ডিজাইনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির উপর দক্ষতা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে।’
যারা নিজেরা ব্যবসা শুরু করতে চান তাদেরকেও স্বাগত জানিয়েছেন সাব্বির হাসান। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের উদ্যোক্তাদের আমি বলতে চাই ছোট থেকে শুরু করতে। এরপর দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং বাজারের গতিপ্রকৃতি বুঝতে হবে। ঝুঁকি পরিমাপে দক্ষ হতে হবে।’
