গ্লোবাল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে চাইলে

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৪, ২১:১৭
সাধারণত আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা সুদীর্ঘ সময় আর অর্থ অপচয় শেষে আবার নতুন করে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং করে হতাশায় ডুবে যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যদি শুরুতেই একটু বিবেচনা করে এমন পড়াশোনা বেছে নিতে পারে যাতে তাকে চাকরির পেছনে ছুটতে হবে না, সেটা তাকে একটি উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করবে। এই ধরনের একটি বিষয় হতে পারে এসিসিএ এবং এসিসিএ ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা (এএফডি)। এই ধরনের ডিগ্রির চাহিদা এখন বেশি থাকায় সব শিক্ষার্থীরাই ঝুঁকছে এসিসিএ ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা এবং এসিসিএ পড়াশোনার দিকে। এসব ডিগ্রির বড় একটি সুবিধা হলো এগুলো স্থানীয় তো বটেই, আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। যেখানে আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোতে শুধু বিবিএ করতে প্রায় আট লাখ টাকা এবং এমবিএ করতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লাগে, সেখানে এসিসিএ ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা (এএফডি), বিএসসি ইন অ্যাপ্লায়েড অ্যাকাউন্টিং (এসিসিএ পার্ট-২) এবং এসিসিএ পার্ট-৩ সম্পন্ন করতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা খর হয়ে থাকে। এসিসিএ ডিগ্রির বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বর্তমানে গতানুগতিক শিক্ষাধারা পাল্টে যাচ্ছে। এখন মেধাবীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী—সবার কাছেই এমন ডিগ্রির গুরুত্ব রয়েছে, যা যোগ্যতার পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতাও এনে দেবে। এমনই একটি ডিগ্রি হলো এসিসিএ। অমাদের দেশে যেমন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি ডিগ্রি আছে, তেমনটি ইউকের সিএ ডিগ্রিকে বলে এসিসিএ। প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বা এসিসিএ পড়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এসিসিএর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যুক্তরাজ্যের প্রফেশনাল সিএ ডিগ্রি। যেহেতু এটি একটি প্রফেশনাল কোর্স, তাই একজন শিক্ষার্থী এসএসসি, এইচএসসি কিংবা ও-লেভেল শেষ করার পরই এসিসিএ ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা (এএফডি) কোর্স শেষ করে এসিসিএর পথে যাত্রা শুরু করতে পারে। আর যারা গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে, তারা সরাসরি এসিসিএ শুরু করতে পারে। এসিসিএর অধীনে প্রধানত দুটি কোর্স পরিচালিত হচ্ছে— এসিসিএ ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা (এএফডি) এবং চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। এএফডি অথবা এসিসিএ কোর্সে সারাবছরই ভর্তি হওয়া যায়। মাত্র এক বছরে এএফডি সম্পন্ন করে একজন শিক্ষার্থী সরাসরি এসিসিএ পার্ট-২ শুরু করবেন। পরবর্তী দেড় বছরে এসিসিএ পার্ট-২ করলে তার অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটি, ইউকে থেকেই বিএসসি ইন অ্যাপ্লায়েড অ্যাকাউন্টিং ডিগ্রি অর্জন হয়ে যাবে। তারপর দেড় বছরে এসিসিএ পার্ট-৩ সম্পন্ন করলে একজন শিক্ষার্থী হয়ে যাবেন যুক্তরাজ্যের কোয়ালিফাইড চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ)। অর্থাত্ মাত্র তিন থেকে চার বছরে যুক্তরাজ্যের অ্যাপ্লায়েড অ্যাকাউন্টিংয়ে অনার্স ডিগ্রিসহ একজন কোয়ালিফায়েড চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। আর সেটা করতে পারলে ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ারের দিকে অনেকটাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমাদের দেশে এসিসিএ এবং এএফডির সব পরীক্ষা ব্রিটিশ কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যে কটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসিসিএ পড়াচ্ছে, তার মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান সাইফুরস ইউনিভার্সিটি কলেজ। এখানে শিক্ষার্থীদের পাসের হারও বেশি। কলেজের নিজস্ব পাশ-গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় শিক্ষার্থীদের পাসের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এখানকার পাসের হার এফডিতে প্রায় ৮৩ শতাংশ এবং এসিসিএতে প্রায় ৬২ শতাংশ। উন্নতমানের টিউশনের পাশাপাশি নিয়মিত কাস, পাঠ্যবইসমৃদ্ধ লাইব্রেরি, নিয়মিত প্র্যাকটিস টেস্ট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষ, ক্লাস টেস্ট, মক টেস্ট, সলভ ক্লাস, ফিডব্যাক নেওয়াসহ সব সুবিধা এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে। যোগাযোগ :৬৯/বি, গ্রিন রোড, পান্থপথ, ঢাকা। ফোন :০১১৯৯৯৮২২০২।