প্রতিপক্ষের খেলা ধ্বংস করে দেয়ার জন্য যা যা করণীয় তার সবটাই করেছিল ইতালি। কিন্তু অতি রক্ষণাত্মক খেলাই কপাল পুড়ালো তাদের। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাই টানা দ্বিতীয়বারের মত বাদ পড়লো প্রথম রাউন্ড থেকেই। ক্ষোভ, হতাশা তাই ভর করেছে গোটা ইতালির উপরই। বড় একটা হতাশা নিয়েই তাই সংবাদ সম্মেলনে আসলেন ইতালিয়ান মিডফিল্ডার। মুখ কালো করে জানালেন সামনে তাকাবার কথা। কিন্তু ভাব-ভঙ্গিতে মনে হল না তিনি নিজেও কথাটা খুব বিশ্বাস করে বলছেন, ‘আমাদের এই সময়টার কথা দ্রুত ভুলে যেতে হবে। খুব জলদি সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হবে আমাদের। ভুলগুলো শুধরে আবারও জ্বলে উঠতে হবে। অতীত মনে রেখে খুব একটা লাভ নেই। নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হবে আমাদের।’ অধিনায়ক জিয়ানলুইজি বুফনের জন্য হতাশার পরিমাণটা আরও খানিকটা বেশি। এটাই যে তার শেষ বিশ্বকাপ। স্কাই স্পোর্টসের সাথে কথা বলতে এসে তাই একে জাতীয় হতাশা বলেই ঘোষণা করলেন বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক, ‘দিনটি আমাদের জাতির জন্য হতাশার দিন। আমাদের জন্য স্রেফ ব্যর্থতা নিয়ে এসেছে এই দিনটি। ইতালির ফুটবলের খারাপ একটা সময় চলছে। একে কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’
গত মঙ্গলবার রাতে ব্রাজিলের নাতালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হারে আজ্জুরিরা।। এর আগের ম্যাচেও কোস্টারিকার বিপক্ষে একই ব্যবধানে হারতে হয় তাদের। তাই শক্তিশালী দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ এক জয় দিয়ে শুরু করার পরও তাই গ্রুপ রাউন্ড থেকেই বিদায় ঘটলো ইতালির। বুফন এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘একটি দল হিসেবে, ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড় হিসেবে, একটি জাতি এবং একটি ফুটবল জাতি হিসেবে এটি খুব দুঃখের দিন। এখানে আমাদের অজুহাত দেয়ার কোন উপায় নেই। আসলে আমরা নিজেরা ভালো খেলতে পারিনি। এই পরাজয় আমাদেরকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে। বিশ্বকাপে আমরা নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর অনেক প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে কোন পয়েন্ট তুলতে না পারায় টুর্নামেন্টে টিকে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছি।’
২০১০ সালের বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ইতালি। সেবার দলের সাথে থাকলেও প্রথম ম্যাচের ইনজুরির পর আর কোন ম্যাচ খেলা হয়নি অধিনায়কের। মাঠের বাইরে থেকেই দেখেছিলেন দলের পরাজয়। এবার মাঠ থেকেই দেখলেন। যদিও দু’টি ঘটনাকে কোনভাবেই মেলাতে চান না বুফন,‘আমরা ২০১২ সালের কনফেডারেশন কাপে এই দল নিয়েই ভালো খেলেছি। তাই দল নিয়ে আমার মনে হয় কোন সমালোচনা হতে পারে না।’
পাঁচটি বিশ্বকাপ দলে ছিলেন। কিন্তু এবারই শেষ। কিন্তু ৩৬ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়কে আর দেখা যাবে না বিশ্বকাপে। পিরলোরও ছিল এটা শেষ বিশ্বকাপ। দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে কোন সিজার প্রানদেল্লিও ছেড়ে দিয়েছেন কোচের পদ। তার অর্থ কি বিশ্বকাপের পরই বড় একটা পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে ইতালিয়ান ফুটবলে? বুফন অবশ্য কোন পরিবর্তন চাইছেন না, ‘সবাই বলে বুফন, বারজাগলি, চিয়েলিনি — সবাই বুড়ো হয়ে গেছে। কিন্তু এই খেলোয়াড়রাই আমাদের সেরা খেলোয়াড়। তাদের উপরই আমাদের ভরসা রাখতে হবে।’
