সম্প্রতি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন ঘোষণা করেছেন জুলাই ২০১৪ থেকে বিনিয়োগকারীদের ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আইপিও-র টাকা জমা দেওয়া ও রিফান্ড কালেকশনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ব্রোকার হাউসগুলোর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে আইপিও-র টাকা জমা নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে সুবিধার চেয়ে অসুবিধা বেশি হবে। আমরা প্রাইমারি শেয়ার বিক্রি করার পর দেখতে পাই যে, যে রেটে শেয়ার বিক্রি হয়েছে- বিক্রিলব্ধ অর্থ থেকে কমিশন বাদ দেওয়ার পরও ১০০, ২০০ এমনকি ৫০০ টাকা কেটে রেখে চেক দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু ব্রোকার হাউস চেক দিতে অহেতুক বিলম্ব করে অর্থাত্ ১৫ দিনের আগে চেক দিতে পারে না। ছয় মাস অন্তর বা বছরান্তে কোনো বিনিয়োগকারীকে তার অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট দেওয়া হয় না। ব্রোকার হাউসগুলোতে হিসাবের ট্রান্সফারেন্সি নেই। অর্থাত্ প্রতিদিনের হিসাব ক্লোজ করে ক্যাশ মিলিয়ে যাবার প্রবণতা নেই। এ অবস্থায় গড়ে প্রতিমাসে যদি নতুন একটি আইপিও আসে এবং প্রতি রিফান্ড নেওয়ার সময় প্রতিটি দরখাস্তের বিপরীতে ১০০টাকা করে নেওয়া হয় তাহলে প্রতি বিনিয়োগকারী বছরান্তে লোকসানের সম্মুখীন হবে ১০০–১২ = ১,২০০ টাকা অথবা ১০০–১৫ = ১,৫০০ টাকা। অর্থাত্ তার বিনিয়োগ প্রতি আইপিও-র জন্য ৫,০০০ টাকার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। অন্যদিকে প্রতি জুনে ৫০০ টাকা অ্যাকাউন্ট নবায়ন ফিস তো আছেই।
অন্যদিকে আমাদের দেশে সম্প্রতি নতুন ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের পুরাতন ৫২টি ব্যাংকের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে ৯টি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হওয়ায় তাদের আমানত পর্যাপ্ত নয়। যেখানে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পুরাতন ৫২টি ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, উচ্চ সুদের হার ইত্যাদি কারণে আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারছে না সেখানে নতুন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকগুলো হয়তো আরো করুণ অবস্থার মধ্যে পড়বে। নতুন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কয়েকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত পূরণ করে বিভাগীয় শহরগুলোর শাখা শুরু করেছে। সুতরাং এ অবস্থায় নতুন আইপিও-র টাকা গ্রহণের জন্য ব্রোকার হাউসের পরিবর্তে নতুন ব্যাংকগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সদয় বিবেচনা করে বিনিয়োগকারীদের কষ্ট লাঘব করতে পারেন।
মো. কামরুজ্জামান,
ফ্লাট ১৩, ১১ দক্ষিণ মুগদাপাড়া,
৭ নম্বর গলি, সবুজবাগ, ঢাকা ১২১৪
