জাতীয় সংসদের চলতি অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশনেই পাস হচ্ছে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন। আইনে ফরমালিন অপব্যবহারের দণ্ড হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। এ আইনের মাধ্যমে ফরমালিন আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আইনটি পাস হলে দেশে ফরমালিনের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, খাদ্যে ফরমালিন মেশানো হলে ভারতে যাবজ্জীবন, চীনে মৃত্যুদণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল বুধবার ফরমালিন আইনের খসড়ায় স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষর করার পর গতকালই তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। চলতি সংসদ অধিবেশনেই আইনটি পাস করা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ফরমালিন মেশানোর সর্বোচ্চ সাজা দুই বছরের কারাদণ্ড। এটা এ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। সে জন্য আইনে বিশেষ আদালতে বিচার করার বিধান রাখা হবে।
গবেষণাগার, হাসপাতাল, চামড়াশিল্প, টেক্সটাইল, হ্যাচারি, বোর্ড শিল্প ইত্যাদিতে ব্যবহারের জন্য ফরমালিন আমদানি করা হলেও খাদ্যপণ্যে ফরমালিনের অবাধ ব্যবহারে মানুষ এখন রীতিমতো আতংকিত। অনেকেই ফলমূল খাওয়া এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছেন।
মানব দেহে ১ দশমিক ৫ পিপিএম মাত্রার ফরমালিন সহনীয় হলেও ফরমালিন নির্মূলে বিভিন্ন অভিযানে ফলমূলে ১২৫ পিপিএম মাত্রার ফরমালিন পাওয়া গেছে, যা মানব দেহের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। বিশ্বব্যাপী মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উপকরণ হচ্ছে ফরমালিন। অথচ এই ফরমালিন আমাদের দেশে ব্যবহার হচ্ছে খাদ্যপণ্যের পচন রোধে।
ফরমালিনযুক্ত খাবার শুধু খাওয়া নয়, যারা ফরমালিন নিয়ে কাজ করেন তাদের নাকের ক্যান্সার এবং লিউকেমিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি। এছাড়া ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে ফুসফুস ক্যান্সার, কিডনি রোগ হওয়ার আশংকা রয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের অস্বাভাবিকতা, গর্ভপাত, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস এবং প্রসবজনিত অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয়।
সূত্র জানিয়েছে, ফরমালিন নির্মূলে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে ফরমালিন বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রেতাকে লাইসেন্সধারী হতে হবে। এছাড়া সবাই ফরমালিন ক্রয় করতে পারবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ফরমালিনের অবৈধ ব্যবহার রোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে আমদানি কমেছে ফরমালিনের। গত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৭৫০ টন ফরমালিন আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু গত অর্থ বছরে তা ৪০ টনে নেমে এসেছে। তবে অবৈধভাবে ফরমালিন আমদানি হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ফরমালিনের অবাধ আমদানি বন্ধ করতে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবির) মাধ্যমে আমদানির প্রস্তাব দিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন আহমেদ।
