মারাত্মক ত্রুটি পাওয়া গেছে ২ ভাগ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৪, ২২:০৭
ইউরোপের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত অ্যাকর্ড (অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফিট ইন বাংলাদেশ) এ পর্যন্ত ৭৬০টি গার্মেন্টস কারখানার ভবনের অগ্নি ও কাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে ১৪টি ভবনে বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে, যেগুলোতে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এসব ভবনে অ্যাকর্ডে স্বাক্ষরকারী ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করে এমন কারখানা রয়েছে ১৪টি। অর্থাত্ বন্ধ হওয়ার মত ত্রুটি পাওয়া গেছে ২ শতাংশের মত কারখানায়। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাকর্ড ৭৬০টি কারখানার পরিদর্শনের ফলাফল তুলে ধরে। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ১৪টি ভবনে ২৩টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাকর্ডের ১৪টি ছাড়া বাদবাকি কারখানাগুলো অন্যদের পোশাক সরবরাহ করে। অবশ্য ৭৬০টি মধ্যে বেশিরভাগ কারখানায়ই অগ্নি ও কাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে। এসব ত্রুটি সংশোধনযোগ্য। ত্রুটি সংশোধনের জন্য এসব কারখানাকে তিন থেকে ৬ মাসের সময় দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে কারখানা পরিদর্শনের বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেন বাংলাদেশে অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ। তিনি বলেন, ভবনের কাঠামোগত, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক অনিরাপদ কারখানার কাজ বন্ধ করার জন্য পর্যালোচনা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ভবনে অবস্থিত কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাকি ৩টি ভবনের লোড অপসারণ করা এবং বাদবাকি ৭টি ভবনের কারখানাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ‘রানা প্লাজা’ দুর্ঘটনার পর কারখানার কাঠামো ও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার লক্ষ্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত আলাদা দুটি জোট কাজ করে যাচ্ছে। অ্যাকর্ডে এখন পর্যন্ত ১৮০টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান স্বাক্ষর করেছে। এই ১৮০টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অর্ডার সরবরাহ করে এমন প্রায় ১ হাজার ৭শ’ কারখানা পরিদর্শন করবে অ্যাকর্ড। এসব কারখানার অগ্নি ও কাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করতে চুক্তিবদ্ধ এসব ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফিট বা অ্যালায়েন্স আরো প্রায় ৬শ’ কারখানা পরিদর্শন করবে। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে ইতিমধ্যে ২২টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি অ্যাকর্ডের পরিদর্শনে আর বাকি কারখানাগুলো অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে বন্ধ হয়েছে। অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে বন্ধ হওয়া কারখানার বেকার হওয়া শ্রমিকদের দেড় মাসের বেতন-ভাতা দিচ্ছে অ্যালায়েন্সে স্বাক্ষরকারী ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অ্যাকর্ডের পরিদর্শনে বন্ধ হওয়া কারখানার বেকার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে বিজিএমইএ। গতকাল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে রব ওয়েজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, কোন কারখানার মালিক বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্র্যান্ডদের জানালে তারা সহায়তা করেছে। তবে কোন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান কোন কারখানায় সহায়তা করেছে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। তিনি বলেন, যে সব কারখানা মালিকেরই সামর্থ্য আছে, কারখানা বন্ধ থাকাকালীন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ওই কারখানা মালিকই পরিশোধ করা উচিত। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত প্রধান কারখানা নিরাপত্তা পরিদর্শক ব্র্যাড লোয়েন, অ্যাকর্ডের ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যালান রোবেন প্রমুখ।