ব্যবসায়ী হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামে ১০ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৪, ২২:০৯
চট্টগ্রামে মো. রোকনুজ্জামান (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে হত্যা, ব্যবসায়ীর স্ত্রীর শ্লীলতাহানি, বাসায় ভাংচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আহমেদ সাঈদের আদালতে মামলাটি করেন রোকনুজ্জামানের স্ত্রী শিমু আক্তার। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার ১০ আসামি হলেন পাঁচলাইশ থানার এসআই আমির হোসেন, বাকলিয়া থানার এএসআই মো. এনায়েত হোসেন, পাঁচলাইশ থানার তিন কনস্টেবল মো. মিজানুর রহমান, মো. মোসলেম ও খোকন মিয়া, আনসার কনস্টেবল শাহীনূর আলম, পাঁচলাইশ থানার গাড়িচালক কনস্টেবল আকবর, পুলিশ সোর্স মো. জামাল ও হুমায়ুন কবির এবং ঘটনাস্থলে থাকা হারুনুর রশিদ ডিউক নামে এক ব্যক্তি। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এ বিষয়ে ইত্তেফাককে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৩০২, ৩৮০, ৩৫৪ এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনারকে অভিযোগ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আলামত জব্দ করা, সাক্ষীদের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নেয়া এবং প্রয়োজনে পুনঃময়না তদন্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারামতে ২৩ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন বুধবার দিবাগত রাতে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন সৈয়দ শাহ রোডে এহসান সিটির একটি ফ্ল্যাটে পুলিশের হেফাজতে রোকনুজ্জামান নামে এক আবাসন ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা পুলিশের নির্যাতনে রোকনুজ্জামানের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করলেও পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, রোকনুজ্জামান পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা একটি ধর্ষণ মামলার আসামি। তাকে গ্রেফতার করার জন্য বুধবার রাতে পুলিশ রোকনুজ্জামানের বাসায় প্রবেশ করে। এসময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।