বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া বাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আরিফুল ইসলাম রাহাত (৩৫) নামে এক টেলিকম (ফোন, ফ্যাক্স ও মোবাইল) ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাহাত তালোড়া বাজারের স্টেশন এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। তিনি তালোড়া বাজারে ‘সরদার টেলিকম’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। একটি পক্ষ নিহত রাহাতকে জাতীয় পার্টির তালোড়া পৌর কমিটির আহবায়ক দাবি করলেও জেলা জাতীয় পার্টি তা অস্বীকার করেছে।
এই খুনের ঘটনায় দুপচাঁচিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত রাহাতের ছোট ভাই এসএম সাঈদ বাদী হয়ে তালোড়া পৌর যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন স্বপন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সৈয়দ আজাদ, সাধারণ সম্পাদক এসএ স্বাধীন ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এমদাদুল হকসহ ১৭ জনের নাম উল্লে¬খ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন:যুবদলের তারেক সরদার (২৮), ছাত্রদলের এমদাদুল হক (২৫), আনারুল হক (২২) ও নূরুন্নবী রিমন (২৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মঙ্গলবার রাতে তালোড়া রেল ঘুমটি জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়ে রাহাত তালোড়া বাজারে নিজের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। রাত ৮টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার উপর হামলা করে। রাহাতকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। রাহাত চিত্কার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাহাত দীর্ঘদিন বিদেশে ছিল। সমপ্রতি সে দেশে ফিরে টেলিকমের ব্যবসায় শুরু করেন। এর আগে দেশে অবস্থানকালে রাহাত জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর কর্মী ছিল। স্থানীয় জাতীয় পার্টিতে কোন্দলের ফলে দলে সদস্যপদ লাভ করতে ব্যর্থ হয়। দুপচাঁচিয়া থানার ওসি রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ জানান, ঘটনার পর পরই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সকলেই যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে। নিহত রাহাতের ছোটভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
