সালাম মুর্শেদির কলাম

রোনালদোর শেষ সুযোগ আজ

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৪, ২২:১৪
দিয়েগো গডিনের গোলে গত মঙ্গলবার রাতে উরুগুয়ে নক আউট রাউন্ডে পা রাখলো। পাশাপাশি নিশ্চিত হলো আরেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির বিদায়ও। স্পেন-ইংল্যান্ডের পর তৃতীয় ইউরোপিয়ান ফুটবল পরাশক্তি দেশের পথ ধরলো। আমি শঙ্কিত আজ রাতে আমাদের হয়তো পর্তুগালের বিদায়ও দেখতে হবে। কারণ দলটির অবস্থা, ঘানার শক্তিমত্তা-আত্মবিশ্বাস এবং ‘জি’ গ্রুূপের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় আজ ঘানার বিরুদ্ধে তাদের বড় জয়ের সুযোগ কমই দেখছি আমি। অথচ, ঘানা-আমেরিকাকে টপকে জার্মানির পর এই গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসাবে শেষ ষোলয় উঠতে তাদের বড় জয়ের কোন বিকল্প নেই। পর্তুগাল যদি সেটা করতে চায়, তাহলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আজ অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে হবে। তাই আজকের ম্যাচকে আমি এই সুপারস্টারের সর্বশেষ সুযোগ হিসাবেই দেখছি। পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্নটা বড় ধাক্কা খায় মূলত জার্মানির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে বিধ্বস্ত হয়ে। একটা দল যখন প্রথম ম্যাচে এত বড় ব্যবধানে হারে তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটা তলানীতে নেমে আসে। পাশাপাশি দুই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা পেপে এবং ফ্যাবিও কোয়েন্ত্রাও খেলতে পারেননি ঐ ম্যাচের অধিকাংশ সময়। যথাক্রমে নিষেধাজ্ঞা ও চোটের কারনে পরের ম্যাচেও তারা ছিলেন না। তবে তাদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে মূল খেলোয়াড় রোনালদোর ফিটনেস ঘাটতি। দুই ম্যাচেই পুরো সময়টা মাঠে কাটালেও তার খেলায় চোটের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। আজ পর্তুগাল কেমন খেলবে তার পুরোটাই নির্ভর করছে রোনালদোর পারফরম্যান্সের উপর। প্রথম ম্যাচে চার গোল হজম করার কারণে পর্তুগাল গোল ব্যবধানে অনেকটা পিছিয়ে আছে। এই ঘাটতি পোষাতে তার কাছ থেকে অতিমানবীয় কিছু চাইবে দেশ এবং সমর্থকরা। সেরা ফর্মের রোনালদোর যে সেই ক্ষমতা আছে বাছাইপর্বের প্লে অফে সুইডেনের বিরুদ্ধে একাই চার গোল করে রোনালদো সেটা প্রমাণ করেছেন। তবে, সেই রোনালদো আর এই রোনালদোর মধ্যে বিস্তর ফারাক চোখে পড়ছে আমার। দীর্ঘ, ক্লান্তিকর একটা ক্লাব মৌসুম শেষে রোনালদোর পক্ষে একা কি করা সম্ভব হবে সেই নিয়ে তাই আমি সন্দিহান। পর্তুগালের চাইতে বরং আমি ঘানাকে এগিয়ে রাখবো। একটা কথা আমি পরিষ্কার বলতে চাই, আফ্রিকান দেশটি যদি জার্মানির বিরুদ্ধে তাদের পারফরম্যান্স এই ম্যাচে ধরে রাখতে পারে তাহলে আজকের ম্যাচে তারাই ফেভারিট। পর্তুগালের ফুটবল ঐতিহ্য এক্ষেত্রে কোনই কাজে আসবে না। ঘানার এই দলটির টিম স্পিরিটের প্রশংসা আপনাকে করতেই হবে। পাশাপাশি আসামোয়াহ জিয়ান-প্রিন্স বোয়েটাংয়ের মতো কিছু খেলোয়াড় আছে দলে, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে যারা কোন ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। অন্যদিকে, আমেরিকার বিরুদ্ধে জার্মানির ম্যাচটা হয়তো খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে না। এরই মধ্যে শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় জার্মানি হয়তো তাদের রিজার্ভ বেঞ্চের কিছু খেলোয়াড়কে একটা সুযোগ দিতে চাইবে। আমেরিকার সামনেও পরের রাউন্ডে যাওয়ার দারুণ সুযোগ। কেবল ড্র হলেই চলছে তাদের। এই ম্যাচে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নজর থাকবে দুই কোচের উপরেও। আমি নিশ্চিত আমেরিকার কোচ জার্গেন ক্লিন্সম্যানের জন্য রাতটা হবে অনেক আবেগের। একটা সময় যেই দলের জার্সি গায়ে তিনি খেলেছেন, যে দলকে শিরোপা জেতাতে চেয়েছেন, আজ কোচ হিসাবে সেই দলেরই মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। এই বিষয়টা তাকে আবেগাক্রান্ত না করেই পারে না। ‘এইচ’ গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাশিয়ার মুখোমুখি হবে আলজেরিয়া। কোরিয়ার বিরুদ্ধে আলজেরিয়ানরা যে খেলাটা খেলেছে, আজ সেটার পুনরাবৃত্তি করতে পারলে তাদের জন্য পরের রাউন্ডে যাওয়াটা খুব বেশি কঠিন হবে না। রাশিয়ার গত দুটি ম্যাচে তাদের খেলায় কোন মরিয়া ভাব আমার চোখে পড়েনি। পজেশন ফুটবল খেলার দিকেই যেন তারা বেশি মনোযোগী। কিন্তু আজ সে ধরনের খেলা তাদের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে না। কারণ, আজ ড্র করলেও তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবার সুযোগ নেই। সবকিছু মিলে আজ আলজেরিয়াকেই আমি এগিয়ে রাখবো। গত মঙ্গলবার রাতে ইতালি বিদায় নিলেও আমি বলবো শ্রেয়তর দল হিসাবেই জিতেছে উরুগুয়ে। তিনটি ম্যাচেই ইতালিয়ানদের শরীরী আমাকে হতাশ করেছে। জিয়ানলুইজি বুফন, আন্দ্রিয়া পিরলোর মতো অভিজ্ঞ কিছু খেলোয়াড় তাদের ছিলো, তবে ব্রাজিলের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে পারেননি দলের অন্য কেউই। ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো তাদের। ইউরোপিয়ান পরাশক্তিগুলোর আগেভাগে বিদায়ে টুর্নামেন্ট কিছুটা রং হারালেও আমার মনে হয় কোস্টারিকা, চিলি কিংবা কলম্বিয়ার মতো দলগুলোও দর্শকদের যথেষ্ট বিনোদন উপহার দিচ্ছে।