নকআউট রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে আজ রেসিফের অ্যারেনা পারনামবুকোয় আমেরিকা মুখোমুখি হচ্ছে শক্তিশালী জার্মানির। ম্যাচটাকে চাইলে দেখা যায় পুরনো দুই বন্ধু মুখোমুখি হিসাবেও। কারণ বছর দশেক আগে জার্গেন ক্লিন্সম্যানের সহকারী হিসাবেই জাতীয় দলে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন জোয়াকিম লো। সময়ের বিবর্তনে সেই লোই আজ জার্মানির মূল কোচের ভূমিকায়। অন্যদিকে সাইড লাইনে দাঁড়িয়ে জার্মানদের আটকে দেয়ার ছক কাটবেন আমেরিকার দায়িত্বে থাকা ক্লিন্সম্যান। ইউরোর ২০০৪ আসরে কোন ম্যাচ না জিতে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার পর জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) দলের দায়িত্ব অর্পণ করে ক্লিন্সম্যানের হাতে। বর্ণাঢ্য এক খেলোয়াড়ি জীবনের অধিকারী ক্লিন্সম্যান সেখানে সহকারি হিসাবে পান লোকে। এই দু’জনের মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ধ্বংস্তূপে পরিণত জার্মান দল ঘুরে দাঁড়ায় দ্রুত। কোচ হিসাবে নিজেদের প্রথম বড় টুর্নামেন্টেই সাফল্যের মুখ দেখে এই জুটি। দেশের মাটিতে ২০০৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অধিকার করে তারা। মাঠের ফলের পাশাপাশি এই জুটি আলোচিত হয় তাদের নতুন ফুটবল কৌশলের জন্যও। নিজেদের ঐতিহ্যবাহী লম্বা পাসের ফুটবলের সঙ্গে গতির সম্মিলনে জার্মানি আবারো পরিণত হয় ইউরোপিয়ান ফুটবল পরাশক্তিতে। লুকাস পোডলস্কি, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগারদের মতো তারকা ফুটবলারদের জন্মও তাদের হাত ধরেই।
তবে বিশ্বকাপের পর পরই ক্লিন্সম্যান কোচের পদ ছেড়ে দিলে লোর সঙ্গে তার কোচিং জুটিতে ভাঙ্গন ধরে। তবে সেটা জার্মানির ফুটবল অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দুটি ইউরো এবং মাঝখানের বিশ্বকাপে জার্মানির টানা সেমিফাইনাল খেলাই তার প্রমাণ। তবে আজ জার্মানির বিরুদ্ধে খেলার সময় পুরনো সেই বন্ধুত্বের কথা নিশ্চয়ই মনে রাখবেন না ক্লিন্সম্যান। যদিও রাত দশটায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে ড্র করলে দু’দলের সামনেই সুযোগ থাকছে পরবর্তী রাউন্ডে যাবার। সেক্ষেত্রে সমান পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপ থেকে পর্তুগাল এবং ঘানাকে টপকে নকআউট রাউন্ডে পা রাখবে তারা। যদিও গোল ব্যবধানে গ্রুপ শীর্ষস্থান পাবে জার্মানি।
তবে আমেরিকা জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বলে জানালেন জার্মানির পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলের মালিক এই তারকা, ‘আপনি যদি আমেরিকার ইতিহাসের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন, কখনোই তারা কোন চ্যালেঞ্জ থেকে পিছু হটেনি।’ তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করলেন, অন্যদলের কোচ হিসাবে পিতৃভূমির মুখোমুখি হওয়াটা আজ রাতে তাকে যথেষ্ট আবেগাক্রান্ত করবে, ‘এই খেলাটা অবশ্যই আমার জন্য বিশেষ কিছু। এটা আসলে এমন কিছু এক জীবনে যা হয়তো একবারই আসে।’ পিতৃভূমির বিরুদ্ধে সমানে সমান লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও জার্মানিকে ফেভারিট হিসাবে মেনে নিতে আপত্তি নেই তার। জার্মানির ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই সদস্য বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার দৌড়েও অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রাখলেন জার্মানিকে, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই জার্মানির আছে। এবং নিশ্চিতভাবেই আজকের নব্বই মিনিট (ম্যাচ) শেষ হয়ে যাবার পর আমার সমর্থন তাদের দিকেই থাকবে।’
