গত তিনদিনের টানা বর্ষণে টঙ্গীর প্রত্যন্ত এলাকার রাস্তাঘাটসহ প্রধান প্রধান সরকারি-বেসরকারি অফিসসমূহে প্রবেশের রাস্তাগুলি পানির নিচে চলে গেছে। চারদিন পার হয়ে গেলেও সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করতে পারছে না সাধারণ মানুষ। ফলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী অঞ্চলের নাগরিক জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ অঞ্চলের বেশির ভাগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ। রাস্তার পাশের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কোন উদ্যোগ নেই গাজীপুর সিটি করর্পোরেশনের।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গত শুক্র-রবি তিনদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে টঙ্গীর সাতাইশ রোড, দেওড়া রোড, টঙ্গী শিল্পাঞ্চল রোড, টঙ্গী মডেল থানা রোড ও টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ বেশির ভাগ রাস্তাঘাট ও সড়কগুলো পানিতে ডুবে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে এসব এলাকার বেশির ভাগ স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা অতি কষ্টে তাদের কর্মস্থলে যাতায়াত করছে। এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনুন্নত ও অপরিষ্কার হওয়ার কারণে বেশিরভাগ ঘর-বাড়ি ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। গৃহে অবস্থানকারী মহিলারা ঘরের ময়লা পানি সেচে প্রত্যেকের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করছে। বন্ধ হয়ে গেছে রান্নাবাড়া ও গৃহস্থালী কাজকর্ম। টঙ্গীর মাছিমপুর এলাকার বাড়ির মালিক শরিফ মিয়া জানান, এ এলাকার তিতাস গ্যাস রোডটি বছরের ৬ থেকে সাত মাসই ময়লা পানিতে ডুবে থাকে। কোন প্রকারেই এ রাস্তায় চলাচল করা যায় না অথচ প্রায় দেড়-দু’শ বাড়ির বাসিন্দাদের চলাচলের একটিমাত্র রাস্তা।
গত দু’দিনের বৃষ্টিপাতে সড়ক প্লাবিত হয়ে নোংরা পানি বাড়িতে প্রবেশ করেছে। টঙ্গী মডেল থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই থানার ভেতর বাহির তলিয়ে যায়। স্টাফদের প্রতিটি থাকার ঘরে পানি প্রবেশ করায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
