পাবনায় তাঁতিরা চিন্তিত রঙ ও সুতার দাম বৃদ্ধি

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ২১:৪৭

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার তাঁতিরা ঈদের পোশাক তৈরি করছেন ঠিকই কিন্তু তাদের মাঝে নেই ঈদের আনন্দ। কাপড়ের দাম নেই। কিন্ু্ত লাগামহীনভাবে বেড়েছে রং, সুতা ও মজুরিসহ তাঁত শিল্পের অন্যান্য সরঞ্জামাদির দাম। তাঁতিদের বক্তব্য মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কাঁচামালের দাম বেড়েছে তিনগুণ। কিন্তু সেই তুলনায় কাপড়ের দাম পাচ্ছেন না তারা। অনেকেই পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।

পাবনার নতুনপাড়ার তাঁতি মতিন মিয়া জানান, প্রায় তিনগুণ বেড়েছে রং ও সুতার। তার সঙ্গে বেড়েছে বিদ্যুত্ বিল ও শ্রমিকের মজুরি। কিন্তু দুই তিন বছর আগে যে দামে কাপড় বিক্রি করা হতো এখনও সেই দামই আছে। আগে একটি লুঙ্গি শ্রমিকের মজুরি ছিল ২৭ টাকা। সেটা এখন বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকায়। ফলে দিন দিন তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তিনি আরো জানান, দুটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও কোনো কুল পাননি। ফলে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে নিজের থাকার ঘর বিক্রি করতে হয়েছে।

একই কথা বললেন, নতুনপাড়ার তাঁতি নুরুজ্জামান ও সাইদুল ইসলাম। তারা বলেন, তাদের পেশা ধরে রাখতে চাইলে সরকারকে সহজ শর্তে লোন দিতে হবে। না হলে অন্য পেশায় চলে যেতে হবে।

জালালপুর এলাকার তাঁত মালিক বরকত আলী ও আব্দুল করিম জানান, রঙ, সুতাসহ প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দামের সঙ্গে পেরে উঠতে পারছেন না তাদের মতো মহাজনরা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অতিরিক্তি ট্যাক্স ও ভ্যাট। কাপড় উত্পাদনের পেছনে যে খরচ হয় তা উঠে আসে না। আর ব্যাংকে তাঁতিদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা বৈষম্য দেখেন, শুধু বড়লোক মহাজনরাই এটি পেয়ে থাকেন।  এসব তাঁত মালিকদের দাবি তাদেরকে ঘিরে পৃথকভাবে তাঁত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হলে অনেকটাই উপকৃত হতেন তারা।