বিদেশে রপ্তানির চেষ্টা
আবদুল্লাহ হেল বাকী, ধামইরহাট (নওগাঁ) সংবাদদাতা
স্বাদে গুণে অনন্য নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলের নাক ফজলি আম। আম চাষীরা বর্তমানে গাছ থেকে এ আম নামানোর জন্য সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেছেন। তবে রোজার মাসে আমের চাহিদা কম থাকায় দাম কমের আশংকা করছেন চাষীরা। অন্যদিকে নাক ফজলী আমের গুণাগুণ বিচার বিশ্লেষণ করে দেশের অভ্যন্তর এবং বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কৃষি অফিস।
বর্তমানে বন বিভাগে এমএলএসএস পদে কর্মরত অফতাব হোসেন ভান্ডারি জানান, তার দাদারবাড়ি জেলার বদলগাছী উপজেলার ভান্ডারপুর গ্রামে। ভান্ডাপুর গ্রামের তত্কালীন জমিদার খুকুমনি লাহেরীর কাছ থেকে তার দাদা এ আমের জাত সংগ্রহ করেন। জমিদার খুকুমনি লাহেরী ভারতের কলকাতা থেকে এ আমের জাত সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে আফতাব হোসেন ভান্ডরী জোড় কলমের মাধ্যমে আজ থেকে প্রায় ৫২ বছর আগে ধামইরহাট উপজেলায় এ আমের বিস্তার ঘটায়। বর্তমানে জেলার প্রায় সব উপজেলায় সর্বত্র কম বেশি এ আমের চাষ হচ্ছে। জোড় কলমের মাধ্যমে এ আমের চারা রোপণ করায় ১-২ বছরের মধ্যে গাছে মুকুল আসে। গাছের বয়স ৩-৪ বছর হলে প্রতিটি গাছ থেকে প্রায় ৪-৫মণ আম পাওয়া যায়।
ধামইরহাট পৌরসভার নওয়াপাড়া গ্রামের আমচাষী আব্দুল কাদের বলেন, আগে এ আমের চাহিদা না থাকলেও এখন আম পাকার আগে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আম কেনার জন্য অগ্রিম বায়না দিচ্ছেন। কৃষক পর্যায়ে এ আম প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা দরে কেনা বেচা হয়। পরবর্তীতে বাজারে চাহিদা বাড়লে ৬০-৭০ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি আম বিক্রি হয়।
সাপাহার উপজেলার পাতারি গ্রামের আমচাষী আব্দুল হান্নান বলেন, রোগবালাই কম থাকায় এ আম চাষ করা সহজ ও লাভজনক।
ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, নাক ফজলি আম সব দিক থেকে অনন্য। এ আমকে ব্র্যান্ডিং আম হিসাবে পরিচিতির জন্য ইতোমধ্যে বিলবোর্ডসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এলাকার চাহিদা মেটানোর পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আম সববরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নাক ফজলি আম বিদেশেও রপ্তানীর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ১ জুন থেকে নাক ফজলি আম নামানো শুরু হবে।
