সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় স্থল সীমানা চুক্তি, তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত হত্যাসহ ভারতের সঙ্গে সকল দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কোন রকম ছাড় না দেয়ার (জিরো টলারেন্স) অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের জন্য কাউকে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের মতো সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের জন্য কাউকে আমাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেব না এবং এক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অবস্থান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আত্মগোপনকালে আটক নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় অভিযুক্ত নূর হোসেনসহ বাংলাদেশের সকল সন্ত্রাসীকে ফেরত দিতে ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। খবর বাসসের।
জবাবে সুষমা স্বরাজ বলেন, স্থল সীমানা বিল ইতিমধ্যে ভারতের পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়েছে এবং এটি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার পথে রওয়ানা হওয়ার আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিষয়টি ইতিবাচক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁর দেশের প্রধানমন্ত্রী আগ্রহের সঙ্গে আশা করছেন যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই ভারত সফর করবেন। প্রত্যুত্তরে শেখ হাসিনা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে নরেন্দ মোদীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, তার দেশও আগ্রহের সঙ্গে আশা করছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসবেন।
বাংলাদেশ হয়ে আগরতলায় চাল পরিবহনে ভারতের অনুরোধ সম্পর্কে শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে আগরতলার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। তবে এক্ষেত্রে তিনি সড়ক উন্নয়নে ভারতের সহায়তা কামনা করেন।
দারিদ্র্যকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শত্রু হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোকে দারিদ্র্য বিমোচনে একত্রে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যকার সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করতে হবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে প্রতিবেশীদের সঙ্গে অবশ্যই ভালো সম্পর্ক প্রয়োজন।
তিনি বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ বেগবান করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। শেখ হাসিনা চিকিত্সার জন্য ৬৫ বছরের অধিক বয়স্ক ও ১৮ বছরের কম শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলের মঙ্গলের জন্য বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএমইসি) প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এর আগে সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে শেখ হাসিনা তাঁর অফিসের সিঁড়িতে এসে সুষমাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেঁটে সিঁড়ি পর্যন্ত এসে তাকে বিদায় জানান। বিদায়ের আগে সুষমা স্বরাজকে আলিঙ্গন করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ,এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ মো. জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং এবং ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
