বি শ্ব অ র্থনীতির টু কিটাকি

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৪, ১৯:০৯
তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি সংকোচন জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি সংকুচিত হয়েছে। দেশটির বাণিজ্য দফতরের উপাত্ত অনুসারে, মার্কিন অর্থবছরের দ্বিতীয় (জানুয়ারি-মার্চ) প্রান্তিকে মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) আগের অর্থবছরের চেয়ে বার্ষিক হিসাবে ১ শতাংশ হারে কমে গেছে, যা প্রাথমিক আশঙ্কার চেয়ে অনেক বেশি। তবে ব্যবসায় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও ভোগের সামপ্রতিক উপাত্ত বিশ্লেষকদের আশাবাদী করছে যে, চলতি (এপ্রিল-জুন) প্রান্তিকেই ঘুরে দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। খবর রয়টার্সের। বাণিজ্য দফতরের চূড়ান্ত প্রান্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি। বার্ষিক হিসাবে গেল প্রান্তিকের জিডিপি ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায়। মার্চ-এপ্রিলে পাওয়া প্রাথমিক উপাত্তের ভিত্তিতে সংকোচনের এ হার দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছিল। গেল প্রান্তিকে পণ্য মজুদে প্রবৃদ্ধি ২০১৩ সালের শেষ প্রান্তিকের প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা বার্ষিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি শতকরা ১ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমিয়ে দেয়। মজুদের হিসাব-নিকাশে উত্পাদন ও বিক্রি নিয়ে কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশার একটি সমন্বিত চিত্র পাওয়া যায়। এদিকে গেল প্রান্তিকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মজুদ বেড়েছে ৪৯ বিলিয়ন ডলার। আগের প্রান্তিকে বেড়েছিল ১১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করছেন, চাহিদা বাড়লে মজুদ বাড়ানোর জন্য উত্পাদন বাড়ানোর তাগিদ থাকবে কোম্পানিগুলোর জন্য, যা জিডিপি বাড়াবে। এক জরিপে অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বার্ষিক হিসাবে জিডিপি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়বে, যা প্রথমার্ধের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করবে। তবে এটিও ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী গড় ২ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায় কম। বৈশ্বিক শেয়ার সূচক ছয় বছরের সর্বোচ্চ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্পাদন পরিস্থিতি উন্নতির পাশাপাশি ইউরোপের আর্থিক প্রণোদনার সম্ভাবনা বাড়ায় বিশ্বের অনেক দেশেই প্রধান শেয়ার সূচকগুলো বাড়ছে। এসব সূচকের সমন্বিত রূপ এমএসসিআই ওয়ার্ল্ড ইনডেক্স ও এফটিএসই অল ওয়ার্ল্ড ইকুইটি ইনডেক্স ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। খবর রয়টার্সের। এমএসসিআই ওয়ার্ল্ড ইনডেক্স এখন ২০০৭ সালের শেষ দিককার সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ দূরে। যা অতিক্রম করলে সূচকটি সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উন্নীত হবে। হালনাগাদ উপাত্তে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এমনকি চীনেরও উত্পাদন ও ক্রয়াদেশ বাড়ছে। তবে চাহিদা, মূল্যস্তর ও উত্পাদন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জটিতে এখনো সফল বলা যাচ্ছে না ইউরোপের দেশগুলোকে। ইউরো অঞ্চলের সরকারগুলোর বাজেট ঘাটতি ও জিডিপির বিপরীতে ঋণের উচ্চমাত্রার কথা বিবেচনা করে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো প্রত্যক্ষ আর্থিক প্রণোদনা থেকে বিরত থাকে। এদিকে মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস এবং সমস্যাগ্রস্ত উদীয়মান বাজার থেকে বেরিয়ে আসা পুঁজির প্রভাবে ওয়ালস্ট্রিট আগেই রেকর্ড ছাড়ায়। বাড়তে থাকে জাপানের শেয়ারবাজারও। ইউরোপের বাজারেও পুঁজিপ্রবাহ অব্যাহত। মে মাসের ভোক্তা ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পিএমআই, নতুন ক্রয়াদেশ সবকিছুই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাজারে ইসিবির প্রণোদনার বিষয়ে আশাবাদ বাড়তে থাকে, ইউরোপের শেয়ার বাজারগুলোয় যার প্রভাব দেখা যায় সোমবার।