আমরা জানি, আমরা যে খাবার খাই তার মধ্যে অন্যতম প্রধান তিনটি উপাদান হল শর্করা (কার্বোহাইড্রেট), আমিষ (প্রোটিন) এবং চর্বি (লিপিড)। আমাদের খাদ্যনালীতে এ উপাদানগুলো ভেঙ্গে যথাক্রমে গ্লুকোজ, এমাইনো এসিড এবং ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল হিসেবে রক্তে প্রবেশ করে। শরীরের বিভিন্ন টিস্যু গ্লুকোজকে শক্তি উত্পাদনে ব্যয় করে, এমাইনো এসিড শরীরের গাঠনিক প্রোটিনের প্রয়োজন মেটায় এবং ফ্যাটি এসিড শক্তির উত্স হিসেবে ফ্যাট সেলগুলোতে সঞ্চিত হয়। লিভার ও ঐচ্ছিক মাংসপেশী রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্রহণ করে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। এছাড়াও লিভার এমাইনো এসিড ও ফ্যাটি এসিড থেকে গ্লুকোজ তৈরী করতে পারে। একজন ব্যক্তি যখন রোজা রাখেন তখন সেহরীর কয়েক ঘন্টা পর শরীরের গ্লুকোজের পরিমাণ
নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে নেমে আসে। এমতাবস্থায় মস্তিষ্কের কাজের জন্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী। ফলে শরীরের ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নামক হরমোনদ্ব্বয়ের তুলনামূলক ঘনত্বের পরিবর্তন আসে। এ পরিবর্তনের সিগনাল পেয়ে লিভার গ্লাইকোজেন ভাঙ্গতে শুরু করে। এ প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ সরবরাহ চলে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘন্টা। ইতিমধ্যে গ্লুকোনিওজেনেসিস নামক প্রক্রিয়ায় লিভার ফ্যাটিএসিড ও এমাইনো এসিড থেকে গ্লুকোজ বানাতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় ‘ফ্যাট সেল’ কোষগুলোর সঞ্চিত চর্বি ভেঙ্গে রক্তে ফ্যাটি এসিড বাড়ে। যেগুলো লিভারে এবং মাংসপেশীতে ব্যবহূত হয়। এভাবে রোজার মধ্য দিয়ে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমে আসার একটি পথ তৈরী হয়। এছাড়া যাদের লিভারে চর্বি জমেছে তাদের জন্য রোজা চর্বি কমার একটি সুযোগ করে দেয়।
