সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের জন্য চাই আরো বৃক্ষ

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৪, ২০:৪৯
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে গাছ লাগানো সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় সে উদ্যোগ সীমিত। আবার আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রা করে ‘গাছ লাগাই পরিবেশ বাঁচাই’ স্লোগানের মাধ্যমে মিডিয়ার উপস্থিতিতে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনায় যে গাছের চারাটি রোপণ করা হয় পরবর্তী সময়ে সে চারাটিরও কোনো যত্ন নেওয়া হয় না। তাই দেখা যায়, বর্ষা এলেই বৃক্ষরোপণের জন্য যাঁরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁদের অধিকাংশই সারা বছরেও একবার রোপিত সে গাছটির খোঁজ নেন না। যার ফলে অযত্নে চারাটির আর বেড়ে ওঠা হয় না। সেটা কোনো পশুর খাদ্য কিংবা অন্য কোনো কারণে নষ্ট হয়ে যায়। সরকারি উদ্যোগে গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ এবং খরচ হলেও টাকা বিনিয়োগের তুলনায় উপকার হয় সামান্যই। তবে যদি বন বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে বনায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলেই বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্বন্ধে সচেতন হয় বা সচেতন করা যায় তবে তা দেশবাসীর অস্তিত্ব বা জীবন রক্ষায় বৃক্ষরাজি প্রধান ভূমিকা পালন করবে । আশার কথা, মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হতে শুরু করেছে। নিজেকে নিয়ে মানুষ এখন ভাবতে শিখেছে। কী খাবে, কী খাবে না এ নিয়ে মানুষের সচেতনতার সীমা নাই। অথচ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে অক্সিজেনের পরিমাণ কীভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে মানুষের সামান্য মাথাব্যথা নাই। গাছকে মানুষের সবচেয়ে উপকারী বন্ধু বলা হয়—কেননা গাছ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। বাংলাদেশকে সবুজ শ্যামল প্রকৃতির দেশ বলা হলেও এখানে প্রয়োজনের তুলনায় সবুজের পরিধি খুবই কম। পরিবেশবাদীদের মতে, একটি দেশের মোট ভূমির ২৫% বনভূমি থাকা আবশ্যক অথচ বাংলাদেশে সে পরিমাণ বনভূমি নাই । সরকারি হিসেব মতে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৭.৫০%। পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় বনভূমি আছে মাত্র ৭টি জেলায় (চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট এবং সাতক্ষীরা)। সরকার কর্তৃক দেশের উপকূলীয় ১২ জেলায় সবুজ বেষ্টনী ঘোষণা করা হলেও তা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে শুরু করেছে। বিভাগ অনুযায়ী বনভূমির পরিমাণ হলো—চট্টগ্রামে ৪৩%, খুলনায় ৩৮%, ঢাকায় ৭%, সিলেটে ৬%, বরিশালে ৩% এবং রাজশাহীতে মাত্র ২%। পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু চট্টগ্রাম এবং খুলনা বিভাগ ছাড়া অন্য বিভাগের মানুষ পরিবেশগত মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। আবাসনের নামে অপরিকল্পিতভাবে বন ধ্বংস করছি। এছাড়া জ্বালানি হিসেবে মাত্রাতিরিক্ত কাঠ ধ্বংস করছি। বন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত স্লোগান ‘একটি গাছ কর্তন করলে দুটি গাছ রোপণ করব’ কে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। বন ধ্বংসের কুফল ভবিষ্যতে আমাদের জন্য দুর্যোগ বয়ে আনবে। পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ না হওয়ায় রোপিত বৃক্ষ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বিশ্বের পরাশক্তিসমূহ তাদের রাসায়নিক অস্ত্র কারখানায় পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার এবং অন্যান্য কারখানায় কালো ধোঁয়া পরিবেশকে ভয়াবহভাবে দূষিত করছে। যার প্রভাবে বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ উপকূলীয় বনাঞ্চলের বৃক্ষসমূহ মরে যাচ্ছে। এ কারণে বিশ্ব জলবায়ু এবং প্রাণী অস্তিত্বের জন্য বাংলাদেশ খুবই বিপজ্জনক সীমারেখায় রয়েছে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা মত দিয়েছেন। বৃক্ষরোপণ ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারের সঙ্গে ব্যক্তিকেও সম্পৃক্ত হতে হবে। নিজেদের অস্তিত্বসহ সকল প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বেশি করে বৃক্ষরোপণ করা আবশ্যক। বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষা মৌসুম বৃক্ষরোপণ করার উপযুক্ত সময়। সুতরাং বসতভিটার আনাচে-কানাচে যেখানেই খালি জায়গা পাওয়া যাবে সেখানে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। বেশি না হোক অন্তত প্রত্যেকের উচিত একটি ফলদ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি গাছ লাগানো। আগামী প্রজন্মকে সুস্থ বিকাশের সুযোগ করে দিতে এ কর্তব্যটুকু পালন করা রাষ্ট্রের সকল সুনাগরিকের উচিত। পিরোজপুর