সৃজনশীল পদ্ধতির বিড়ম্বনা

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৪, ২০:৫০
প্রতি বছর বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার পাসের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি সরকারের একটি বড় অর্জন বলেও মনে করা যেতে পারে। যদিও বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা এ অজর্নকে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে; তবু এ ধরনের রের্কড পরিমাণ ফলকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এখানে শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলার প্রশ্নই ওঠে না। এর ওপর রয়েছে আবার সৃজনশীল প্রশ্ন কাঠামোর এক চরম বিড়ম্বনা। গত দু-এক বছর ধরে সৃজনশীল প্রশ্ন কাঠামো নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনের শঙ্কা দূর করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে ত্বরান্বিত করার এক অনন্য উপায় হলো এই সৃজনশীল পদ্ধতি। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সকল বিষয়ের ওপর সৃজনশীল কাঠামোয় পরীক্ষা হয়ে থাকে। এ ধরনের প্রশ্নকাঠামো কি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে? সারা বছরের সকল ছুটি বাদ দিলে খুবই অল্প সময় পাওয়া যায় সমগ্র বই শেষ করার জন্য। তাই অতি দ্রুত পড়িয়ে হোক, না পড়িয়ে হোক সিলেবাস শেষ করতেই হয়। তার ওপর স্কুলগুলোতে শিক্ষকের অপর্যাপ্ততা, সৃজনশীল কাঠামোর ওপর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। কয়েক মাস পরেই শুরু হতে যাচ্ছে পিইসি, জেএসসি পরীক্ষা। তাই পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত। বিশেষ করে অংক নিয়ে। সৃজনশীল কাঠামো নিয়ে তাদের মধ্যে যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে যা তাদের জ্ঞান বৃদ্ধির উত্সাহ-উদ্দীপনাকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই সৃজনশীল পদ্ধতিকে সঠিক ও উপযুক্ত ভাবে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। পাঠ্যবইকে সৃজনশীল উপযোগী, শিক্ষকদের সৃজনশীল কাঠামোর ওপর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞ করে তুলতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীর মননশীলতায় বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা থেকেই যায়। অতএব সৃজনশীল পদ্ধতিকে শ্রেণি উপযোগী করে শিক্ষার্থীদের সঠিক জ্ঞানের বিকাশে সহায়তা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়